ভারতের ওয়ানডে দলে পান্তের জায়গা না পাওয়ার কারণ

দুর্দান্ত প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই, এমনকি বড় বড় পারফরম্যান্সও আছে, টেস্টে অন্যতম বড় ভরসা হলেও ভারতের ওয়ানডে দলে ফের জায়গা পেলেন না রিশভ পান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন হোম সিরিজের স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়নি; তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ধ্রুব জুরেল। জাতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া নেতিবাচক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচকরা পান্তকে বাদ দেওয়ার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ লড়াই শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন রিশভ পান্ত। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতের হয়ে একটি মাত্র ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান তিনি। বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের মেয়াদে সেটিই ছিল ৫০ ওভারের ফরম্যাটে তার একমাত্র ম্যাচ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজের জন্য দল গঠনের সময় আশা করা হয়েছিল পান্ত সুযোগ পাবেন। কারণ, এশিয়ান গেমসের কারণে নিয়মিত সদস্যদের অনেকেই এই সিরিজে ছিলেন না। ইশান কিশান অনুপস্থিত থাকায় এবং শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল না থাকায় মিডল অর্ডারে একজন বাঁহাতি ব্যাটারের তীব্র প্রয়োজন ছিল। অভিজ্ঞ লোকেশ রাহুল প্রথম পছন্দের উইকেটরক্ষক হলেও, ব্যাকআপ বিকল্প হিসেবে পান্তের ফেরাটা নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল।

তবে বাস্তব চিত্র দাঁড়ায় ভিন্ন। ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে পান্তকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লাল বলের ক্রিকেটে, যেখানে তিনি ইরানি ট্রফিতে ‘রেস্ট অব ইন্ডিয়া’ দলের অধিনায়কত্ব করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পান্তের ধারাবাহিকতার অভাবই তার বাদ পড়ার প্রধান কারণ। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রভাবশালী সদস্যরা নির্বাচকদের স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন যে, সাদা বলের ক্রিকেটে পান্ত নিজের অমিত প্রতিভার সঠিক বিচার করতে পারেননি।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও পান্তের পরিসংখ্যান খুব একটা আশা জাগানিয়া ছিল না। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দিল্লি দলের অধিনায়ক হয়ে সাত বছর পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে ফেরেন তিনি। সেখানে ৬ ইনিংসে ১১২.৭৬ স্ট্রাইক রেটে দুটি ফিফটিসহ তিনি করেন ২১২ রান।

অন্যদিকে, সুযোগ পাওয়া ধ্রুব জুরেল সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। শেষ বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৭ ইনিংসে ৯৩ গড়ে ৫৫৮ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন জুরেল, যার মধ্যে ছিল দুটি শতক ও চারটি অর্ধশতক।

২৮ বছর বয়সী পান্তের সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দরজা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেলেও তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এখানেই শেষ দেখছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। পরবর্তী ২০৩১ বিশ্বকাপের সময়ও তার বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এই বাঁহাতি ব্যাটারের জাতীয় দলে ফের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts