ভারতে কোটি তরুণের সমর্থন পাওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ

ভারতে তরতর করে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’- সিজেপি জানিয়েছে, চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রধান বিচারপতি দেশটির কোটি কোটি বেকার তরুণদের পোকামাকড়ের সঙ্গে তুলনা করার পর এক তরুণ ইন্টারনেটে এই দল তৈরির ঘোষণা দেন। এরপর কয়েক দিনেই ইনস্টাগ্রামে দলটির অনুসারী সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যায়, যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রায় দ্বিগুণ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে সিজেপির ওয়েবসাইটটি আর দেখা যাচ্ছে না, এমনকি দেশের বাইরে অনেক স্থান থেকেও এতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ‘আইকনিক ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে’। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তেলাপোকা দেখে তাদের এত ভয় কেন?’

তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, তাদের এই দলটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা এরইমধ্যে নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, তেলাপোকার মরণ নেই।

দলটির অফিশিয়াল এক্স পেজটিও এখন ভারতে আর দেখা যাচ্ছে না। যারা এটি খোলার চেষ্টা করছেন, তাদের একটি বার্তা দেখানো হচ্ছে যে, ‘আইনি নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে’ এটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ দীপকে আরও দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত এবং দলের— দুটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টই হ্যাক করা হয়েছে।

সিজেপি বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক রূপ। বিজেপি ২০১৪ সাল থেকে ভারতের ক্ষমতায় রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি অবশ্য পরে দাবি করেন যে, তিনি আসলে ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছেন, ঢালাওভাবে ভারতের তরুণ সমাজকে নয়।

তবে সিজেপি নিজেদের ‘অলস এবং বেকারদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে দাবি করে। তাদের সদস্য হওয়ার কৌতুকপূর্ণ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সারাক্ষণ অনলাইনে পড়ে থাকা এবং ‘পেশাদারভাবে ক্ষোভ ঝাড়ার’ ক্ষমতা থাকা।

অনলাইনে নিজেদের প্রচারণা চালাতে দলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করে। ‘আমিও তেলাপোকা’ হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে তারা অনলাইনে ঝড় তুলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের তেলাপোকার পোশাক পরে অংশ নিতে দেখা গেছে।

প্রতিষ্ঠাতা দীপকে এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, এই দলটির বিপুল জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে ভারতের বেকারত্বের উচ্চ হার নিয়ে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তারা মনে করছে, মূলধারার রাজনীতিতে তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ, যেখানে এর ১৪০ কোটি মানুষের প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী। তা সত্ত্বেও, আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত পর্যায়েই রয়ে গেছে।

Related Articles

Latest Posts