বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে দলে বিদ্রোহের মুখে বিয়েলসা

কোচিংয়ের পথপ্রদর্শক হিসেবে মার্সেলো বিয়েলসা ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তবে তার প্রথাগত রীতি ও কৌশলের বাইরের পদ্ধতিগুলো আসন্ন টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই উরুগুয়ের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নষ্ট করার ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

‘এল লোকো’ (পাগল) ডাকনামে পরিচিত ৭০ বছর বয়সী বিয়েলসা। তার আক্রমণাত্মক ফুটবল কৌশল ম্যানচেস্টার সিটির সদ্য বিদায়ী কোচ পেপ গার্দিওলা ও যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোসহ তরুণ প্রজন্মের কোচদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

তবে খেলোয়াড়দের প্রতি বিয়েলসার এই অতিরিক্ত কড়াকড়ি দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে প্রায়ই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েতে তার চলমান মেয়াদও এর ব্যতিক্রম নয়।

এই আর্জেন্টাইন কোচের আগমন লা সেলেস্তাদের ডেরায় শুরুতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় সেই উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছিল।

তবে বাছাইপর্বের শেষ ১২টি ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জয় পায় উরুগুয়ে। অর্থাৎ ওই দুর্দান্ত শুরু না পেলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তারা বিপদে পড়তে পারত।

দলের অনেক খেলোয়াড়ের জন্য সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায়। সেবার ব্রাজিলকে বিদায় করে শেষমেশ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল উরুগুয়ে। কিন্তু মাসব্যাপী টুর্নামেন্টে বিয়েলসার অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ খেলোয়াড়দের কাছে তাকে অপ্রিয় করে তোলে।

কোপা আমেরিকার কয়েক মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সময় তার কোচিং পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন উরুগুয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ। তিনি দাবি করেন, বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধের বিরতিতে বিয়েলসার তীব্র সমালোচনায় কেঁদে ফেলেছিলেন লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার দারউইন নুনেজ।

বিয়েলসাও স্বীকার করেছেন যে, বার্সেলোনার সাবেক স্ট্রাইকার সুয়ারেজের এমন ক্ষোভ প্রকাশের পর উরুগুয়ের ড্রেসিংরুমে তার ‘কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে’।

সেই ধারায় দলের ফলাফলের গ্রাফও খারাপের দিকে গেছে। গত নভেম্বরে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৫-১ গোলের হেরে যাওয়ায় তিনি ‘লজ্জিত’ বলে জানিয়েছিলেন বিয়েলসা।

তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচিত উরুগুয়ের মতো দলের খেলোয়াড়দের আস্থা কি বিয়েলসা ফিরে পেতে পারবেন— এখন এটাই বড় প্রশ্ন।

পাশাপাশি মায়ামি ও গুয়াদালাহারার ক্লান্তিকর কন্ডিশনে বিয়েলসার বাড়তি পরিশ্রমনির্ভর খেলার ধরন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের’এফ’ গ্রুপে এই ভেন্যুগুলোতেই সৌদি আরব, কেপ ভার্দে ও ২০১০ সালের আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে।

Related Articles

Latest Posts