বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বাড়ায় ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটের সব পন্টুন তলিয়ে গেছে। এতে লঞ্চযাত্রীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপরে, ভোলার তেতুলিয়া নদী খেয়াঘাট পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার, দৌলতখান পয়েন্টে মেঘনার পানি ৪৭ সেন্টিমিটার ও তজুমদ্দিন পয়েন্টে ১ দশমিক ২৭ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া, ঝালকাঠি পয়েন্টে বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বরগুনার পাথরঘাটা পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ও বরগুনা পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পিরোজপুরে বলেশ্বর নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ও বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।
পাউবোর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এবারই প্রথম একসঙ্গে এতগুলো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।’
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের সব পন্টুন ডুবে যাওয়ায় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
সত্তরোর্ধ্ব যাত্রী আমেনা বেগম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লঞ্চে ওঠানামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
ভোলার নদীবন্দর কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘আজ বিকেলের শেষ জোয়ারে পানি বিপৎসীমার অনেক উপরে উঠে যাওয়ায় সব পন্টুন তলিয়ে যায়। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী অন্তত ৩০টি লঞ্চের প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবল জোয়ারের সময় ঘাট অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

