ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। টেস্ট দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিংকে। আর তার সঙ্গে নতুন করে দলের দায়িত্ব সামলাবেন জো রুট। ২০২২ সালে টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর এবার আবার পুরোদস্তুর অধিনায়ক হিসেবে ফিরলেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) ১৮ বছরের দীর্ঘ কোচিং জীবনের ইতি টানেন ফ্লেমিং। এরপরই তার ‘সঙ্গে’ চার বছরের চুক্তি নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ২০৩০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সাদা বলের দায়িত্বে থাকা ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ‘সঙ্গে’ ফ্লেমিংয়ের বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগে থেকেই বেশ সুদৃঢ়।
তবে আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ফ্লেমিংকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। পরিবারের ‘সঙ্গে’ ছুটি কাটানো শেষে বছরের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে নতুন মিশন শুরু করবেন ফ্লেমিং।
দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অবশ্য ফ্লেমিংয়ের প্রথম সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়ে গেছে—রুটকে অধিনায়ক হিসেবে ফিরিয়ে আনা। নিউ জিল্যান্ড সিরিজের পর বেন স্টোকসের আকস্মিক আন্তর্জাতিক অবসরের পর ভারপ্রাপ্ত বা বিকল্প অধিনায়ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অভিজ্ঞ রুটের ওপরই আবার পূর্ণ আস্থা রেখেছে বোর্ড।
দায়িত্ব পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ফ্লেমিং বলেন, ‘ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চবোধ করছি। বিশ্ব ক্রিকেটে এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। দলের তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত করে একটি বিশ্বমানের দল হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
রুটকে নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘রুটের মতো প্রতিভার সঙ্গে কাজ করতে আমি মুখিয়ে আছি। প্রথম দফার চেয়ে এবার অন্য এক আবহে তাকে সেরাটা দিতে সাহায্য করব।’
পুনরায় নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে পেয়ে জো রুট বলেন, ‘আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হতে পারা বড় সম্মানের। “বাজ” ম্যাককালামের সঙ্গে কাজ করার পর এবার ফ্লেমিংয়ের মতো দূরদর্শী কোচের অধীনে তরুণদের নিয়ে নতুন যাত্রা শুরুর সুযোগ আমাকে রোমাঞ্চিত করছে।’
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক রব কি মনে করেন, ফ্লেমিংয়ের ক্রিকেট মস্তিষ্ক ও রুটের নেতৃত্ব গুণ ইংল্যান্ডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর কড়া বিধিভিত্তিক জটিলতা ছাড়া এবার রুট মুক্ত আমেজে দলকে নিয়ে এগোতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

