ফের জাদুকরী পারফরম্যান্সে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে খেলার দাবি জোরালো করলেন কাভান

অসাধারণকে সাধারণ বানিয়ে ফেলাই যেন অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন কাভান সুলিভান। ১৬ বছর বয়সেই মাঠজুড়ে ছড়াচ্ছেন জাদুকরী আলো, আর প্রতি ম্যাচেই নিজের প্রতিভার নতুন অধ্যায় লিখছেন এই কিশোর। সোমবার রাতেও তার ব্যতিক্ৰম হয়নি—সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ৫-০ ব্যবধানের রাজকীয় জয়ে তিনি একাই করলেন দুই গোল, সতীর্থকে দিয়ে করালেন আরও একটি। 

Now he’s nutmegged the keeper 

Cavan Sullivan gets his brace in style for @PhilaUnion! pic.twitter.com/IjinRebcch

— Major League Soccer (@MLS) September 14, 2026

কাভানের এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভর করে ফিলাডেলফিয়া যেমন জয়ের রথ ছোটানো অব্যাহত রাখল, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে তার প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়ার দাবিটাও আরও জোরালো হলো।

প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ম্যাচের প্রথম গোলটি পান কাভান, যা ছিল পুরোপুরি তার নিজস্ব ট্রেডমার্ক শৈলীর ছাপ। ইনদিয়ানা ভাসিলেভের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে নিখুঁতভাবে পা চালিয়ে স্লাইড করে ব্যাকহিলে দূরের পোস্টে বল পাঠান তিনি।

তবে সেখানেই তার চমক শেষ হয়নি। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে ভাসিলেভের বাড়ানো পাস ধরে একদম কঠিন কোণ থেকেও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দুরান ফেরিকে পরাস্ত করেন কাভান। এমএলএসে এটিই তার প্রথম জোড়া গোল (ব্রেস)।

এর ছয় মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তার খেলার অন্য একটি রূপ সামনে আসে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চড়াও হন তিনি, এরপর খানিকটা গতি কমিয়ে সান দিয়েগোর রক্ষণকে চতুরতার সঙ্গে ফাঁকি দিয়ে বাড়ান নিখুঁত এক পাস। কাভানের সেই বানিয়ে দেওয়া বল থেকেই আসে ফিলাডেলফিয়ার তৃতীয় গোল।

ম্যাচ শেষে অ্যাপল টিভিকে কাভান বলেন, ‘ক্যারিয়ারের প্রথম জোড়া গোল, অনুভূতিটা দারুণ। তবে গোল করতে পেরে যতটা ভালো লাগছে, তার চেয়েও বড় কথা দল পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে।’

দিনের সেরা মুহূর্ত ছিল অবশ্যই কাভানের প্রথম গোলটি।

সেটির স্মৃতিচারণ করে কাভান বলেন, ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমি বক্সে দৌড়ে ঢুকছিলাম। ও (ভাসিলেভ) মাথা তুলে তাকিয়েছিল, তাই বুঝেছিলাম আন্দাজে বল বাড়াবে না। আমাদের চোখে চোখ মিলেছিল। একদম সঠিক জায়গায় বল এসেছিল, আর আমি শুধু ব্যাকহিলে স্পর্শ করে দিই। সত্যিই অসাধারণ এক মুহূর্ত ছিল।’

বিশ্বকাপ বিরতির পর এমএলএস পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকেই কাভানের বুটে দুর্দান্ত ফর্মের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে সিএফ মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে গোল করে তিনি ১৬ বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এমএলএসে সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান (১০টি) রাখার ক্ষেত্রে ফ্রেডি আদুর রেকর্ড পেছনে ফেলেন। লিগের ইতিহাসে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেও তার নাম নথিভুক্ত করেছে এমএলএস। এরপর সিনসিনাটির বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে কাভান একাই করেছিলেন তিনটি অ্যাসিস্ট। তাতে টানা ছয় এমএলএস ম্যাচে তার গোল বা অ্যাসিস্টের ধারা বজায় থাকে, যা প্রমাণ করে দলে তার প্রভাব কতটা দ্রুত বাড়ছে।

এবার সান দিয়েগোর বিপক্ষে যোগ হলো প্রথম জোড়া গোল ও আরেকটি দারুণ অ্যাসিস্ট।

ব্যাকহিলের গোলটি হয়তো পত্রিকার শিরোনাম কাড়বে, তবে আসল বিষয় হলো—কাভান এখন কেবল টুকটাক চমক দেখানো খেলোয়াড় নন, পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন।

এই পারফর্মেন্সের পর স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দল (ইউএসএমএনটি) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। মাউরিসিও পচেত্তিনো ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন চার বছরের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। পরবর্তী ক্যাম্পে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার কথা তিনি নিজেই প্রকাশ্যে বলেছিলেন। পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও কানাডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবে ইউএস সকার।

সেই দল ঘোষণার আগে এখন সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি কাভান সুলিভান।

Related Articles

Latest Posts