ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০-এর ভেতরে নিতে চান ডুলি

জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান কোচ টমাস ডুলি ঢাকায় পা রেখেই ব্যস্ত সময় পার করলেন। সকালে পৌঁছানোর পর বিকালে তিনি হাজির হলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এই কাণ্ডারি জানালেন তার প্রাথমিক লক্ষ্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ১৬০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে টেনে তুলতে চান তিনি।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর অনেক নাটকীয়তা শেষে ৬৫ বছর বয়সী ডুলিকে শুক্রবার নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। পরবর্তীতে রাজধানীতে আয়োজিত ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ডুলি ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে দলটিকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। কোচ হিসেবে বিভিন্ন দলকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। বিশেষ করে, তার অধীনেই ফিলিপাইন তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ২০১৮ সালে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১ নম্বরে। ডুলি জানান, এই নাজুক অবস্থা থেকে উন্নতি করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যদিও এতে সময় লাগবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেটা করতে রাজি, তাদের নিয়ে আমরা সফল হতে পারব। তাই আমার লক্ষ্য হলো র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা। ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে আসা, এটা রাতারাতি হবে না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে আমি একটা বইও লিখেছি— দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘বইয়ে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে এবং তার একটি হলো মানসিকতা। আর মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটা হলো আপনার চিন্তা করার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে ভাবতে হবে এবং আমাদের কী করণীয়, তা বুঝতে হবে। তাহলেই আমরা যে কোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। ১৬০-এর নিচে নামাটা বাস্তবসম্মত, তবে তা আগামীকালই সম্ভব নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।’

সাবেক স্প্যানিশ কোচ কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ দল প্রায়ই সমালোচিত হতো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল— হামজা চৌধুরী বা শমিত শোমের মতো প্রবাসী প্রতিভাদের সঙ্গে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সমন্বয়টা সঠিকভাবে করতে না পারা এবং অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করা। তার অধীনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কখনোই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮০-এর নিচে নামতে পারেনি।

আগামী রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন ডুলি। এরপর ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হবে তার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ দলকে আক্রমণাত্মক ও পজেশনভিত্তিক (বল দখলে রেখে) ফুটবল খেলাতে চান, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে ছুটতে নয়। আমি খেলোয়াড়দেরকেও সেটাই বলছি। পেছনে ছোটার মানে হলো শুধু শুধু দৌড়ানো।’

Related Articles

Latest Posts