ফরিদপুর সদর উপজেলার করিমপুর হাইওয়ে থানায় জব্দ করে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আগুনে পুড়ে গেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার পর থেকে এটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে ছিল।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানার চত্বরে রাখা বাসটিতে আগুনে জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি দুর্ঘটনার পর থেকে বাসটি করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে ছিল।
তিনি জানান, করিমপুর হাইওয়ে থানাটি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। এই থানার ভবন ও জায়গাটি নতুন। হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব জায়গায় কয়েক মাস আগে এটি স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ভবন হওয়ায় জব্দ করে রাখা যানবাহনগুলো থানার সামনে মহাসড়ক লাগোয়া খোলা মাঠে রাখা হয়। এই বাসটিও মহাসড়ক ঘেঁষে মাঠের একপাশে রাখা ছিল।
ওসি বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে আমি বাসে আগুন ধরার খবর পাই। এরপর গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে বাসটি জ্বলছে। পরে আগুন নেভানো হলেও বাসটি পুড়ে গেছে।’
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আমরা হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা বাসের আগুন নেভাতে সক্ষম হই।’
তিনি বলেন, ‘বাসটি আগুনে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু, আগুন কীভাবে ধরেছে, সেটা এখনো জানা যায়নি। কেউ আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, কয়েল বা সিগারেটের আগুন থেকেও ধরতে পারে। কিংবা অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তদন্ত শেষে সেটা নিশ্চিত করা যাবে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বাসটি যেখানে রাখা ছিল সেটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল না। পাশাপাশি জায়গাটি খুব জনবহুলও না। আশপাশে সিসি ক্যামেরা পাওয়া কঠিন। তারপরও আমরা প্রযুক্তিগত ও সনাতনী দুই উপায়েই এই আগুন লাগার কারণ উদ্ঘাটন এবং এর পেছনে কোনো দুষ্কৃতিকারী আছে কি না, তা শনাক্তকরণে কাজ করছি।’

