দুবাই যেতে ছয় মাস আগে ঋণ করে এক ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা দেন শরীয়তপুরের নড়িয়ার নূর হোসাইন। টাকা নেওয়ার পর তিনি আর যোগাযোগ করেননি। প্রতারণার শিকার নূর ঋণ শোধ করতে গিয়ে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েন।
তবে হতাশার মধ্যেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ৩৫ বছর বয়সী নূর। কোনো খরচ ছাড়াই কনস্ট্রাকশন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার দুবাই যাচ্ছেন তিনি। তার মতো শরীয়তপুরের হতদরিদ্র পরিবারের ২১৬ যুবক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিনা খরচে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছেন।
আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো।
নূর হোসাইন নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘দুবাই যাওয়ার জন্য ছয় মাস আগে এক দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। পরে অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা পেলেও বাকি টাকা আর দেয়নি। প্রতারণার শিকার হয়ে গিয়েছিলাম। স্থানীয় নুসা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। টেনে-টুনে ৮০ হাজার টাকার মতো শোধ করেছি।’
নূর হোসাইন বলেন, ‘এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখে বিনা খরচে ১১ জনের সঙ্গে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছি। এখানে আমার এক টাকাও খরচ হয়নি। প্রায় দেড় মাস স্টিল ফিক্সিংয়ের কাজ শিখেছি। এবার বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে পারব।’
ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল ডেইলি স্টারকে বলেন, মোট ২১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট ৪৬ জনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও ১১ জনের হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।
‘আরও ১৫৯ জন দুবাই যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন’, বলেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ দিরহাম বেতন পাবেন। পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে। একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ জন দুবাইগামী কর্মীর হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।
এ সময় দুবাইগামী কর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন আপনারা। আপনারা দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। দুবাই গিয়ে দেশটির আইন মেনে চলবেন। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ এড়িয়ে চলবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা নড়িয়া ও সখিপুরের অধিকাংশ মানুষ পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বাস করেন। এ অঞ্চল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও নানা নাগরিক সুবিধায় পিছিয়ে আছে। অনেকে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, উদ্বাস্তু জীবন কাটাচ্ছেন। প্রয়োজনের তাগিদে অনেকে পেশাও পরিবর্তন করছেন। এমন পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত অর্থায়নে আমার নির্বাচনী এলাকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিনা খরচে বিদেশে পাঠাব। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। কথা রাখতে পেরে নিজের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করছে।

