পাজের অঙ্গীকার, ‘বিশ্বকাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনব’

বিশ্বকাপের ফাইনালে হারার যন্ত্রণা এখনও তাজা। তবে হতাশার মধ্যেও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন নিকোলাস পাজ। জন্মভূমি স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে আর্জেন্টিনার এই তরুণ মিডফিল্ডার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, একদিন বিশ্বকাপের ট্রফি আবারও দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনবেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের অধিকাংশ সদস্য নীরবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছেড়ে গেলেও সামাজিক মাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী বার্তা দিয়েছেন মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ।

ইনস্টাগ্রামে সতীর্থদের সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে কোমোর এই ফুটবলার লেখেন, ‘আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত আমি। এই দেশকে, এই দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা এবং এমন একদল অসাধারণ মানুষের অংশ হতে পারা, যারা প্রতিটি মুহূর্তে এই জার্সির জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেয়, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি শুধু ধন্যবাদ বলতে পারি।’

এরপরই সমর্থকদের উদ্দেশে দেন দৃঢ় এক প্রতিশ্রুতি, ‘আমি কথা দিচ্ছি, এই বিশ্বকাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে আমার সর্বস্ব দিয়ে লড়ব।’

একই সঙ্গে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার, ‘স্পেন এবং সব স্প্যানিশকে অভিনন্দন। আর্জেন্টিনা চিরজীবী সুখে-দুঃখে, সবসময়।’

পাজের গল্পটা অন্যরকম। ২০০৪ সালে স্পেনের সান্তা ক্রুস দে তেনেরিফেতে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলারই ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি নিজের জন্মভূমির বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন।

রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা পাজ স্পেনেই বড় হয়েছেন, এমনকি তার কথাবার্তাতেও স্প্যানিশ টান রয়েছে। তবু জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সময় কোনো দ্বিধা ছিল না। ছোটবেলা থেকেই তিনি জানতেন, তিনি খেলবেন আর্জেন্টিনার হয়েই।

এর পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তার বাবা পাবলো পাজ, যিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিকো পাজ বলেছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাবা আমার মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছিলেন। তিনি আমার নাম লেখা আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে দিতেন। দূরে থেকেও সবসময় দেশের জন্যই সমর্থন করতেন।’

চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নিকোলাস পাজ।

Related Articles

Latest Posts