নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে আজ শুক্রবার সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান নেত্রকোণা কোর্ট পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ১০ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ মে আসামিকে নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় নিয়ে ১৭ মে সিআইডি অফিসে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
বর্তমানে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর জেল হাজতে রয়েছেন। আদালত আগামী ২৮ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসামিকে ঢাকার সিআইডি অফিসে নিয়ে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।
গত ২৩ এপ্রিল ওই শিশুর মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিক্ষক সাগর একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন, যার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
গত ৭ মে আদালত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানালে গত ১২ মে বিকেলে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হোম) পাঠানো হয়।

