ঘরের ছেলে হয়ে জন্মশহর পুহাতোতে পা রেখেছিলেন। কিন্তু বিশ্বজয়ের উল্লাস নিয়ে নয়, বুকের ভেতর রানার্সআপ হওয়ার ক্ষত চেপে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে আসার পর নিজের শহরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিলেন লিওনেল স্কালোনি। এর আগে ফাইনাল হারের পরও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাকে আবেগী হতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে হারার এক সপ্তাহ পর সেই হতাশাকে পেছনে ফেলে সমর্থক, শিষ্য এবং দলের স্টাফদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান আর্জেন্টিনা কোচ।
ইনস্টাগ্রামে স্কালোনি লেখেন, ‘আরেকটি ট্রফি আপনাদের হাতে তুলে দিতে পারলাম না, এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ ভক্তের ভালোবাসায় ভাসেন ৪৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড।
ফাইনালে হারের পর নিজের মনের ভেতর চলা ঝড় তুলে ধরে স্কালোনি লেখেন, ‘দুঃখ আর আনন্দ যেন মিশে গিয়েছিল একসঙ্গে; অশ্রু আর হাসি, চরম উদ্বেগ আর এক চিলতে প্রশান্তি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি।’
শিরোপা হাতছাড়া হলেও নিজের শিষ্যদের পারফরম্যান্সে ভীষণ গর্বিত স্কালোনি। স্ত্রীর সঙ্গে আলাপে খেলোয়াড়দের তিনি প্রায়ই ‘আমার যোদ্ধা’ বলে সম্বোধন করেন উল্লেখ করে লেখেন, গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই তার জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন সমালোচনা ও ট্রোলের শিকার হওয়ার ঘটনাও স্পর্শ করেছে স্কালোনিকে। তীব্র সমালোচনাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন রূপক অর্থে— ‘যারা আমাদের চেনে না, তাদের কাছ থেকে আসা এক বালতি ঠান্ডা জল’ হিসেবে। তবে এসব বাধা জয় করে সব প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়ানোকেই তিনি নিজের দলের আসল ‘শিরোপা’ বলে মনে করেন।
কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) নেপথ্যের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি পোস্টের শেষভাগে এক কালজয়ী লাইন যোগ করেন, ‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, ধরে নিন তার কাছে একটি রত্ন আছে।’
বিশ্বকাপের পর পুহাতো ছাড়ার সময়ে স্কালোনির এই পোস্ট অবশ্য তার ভবিষ্যতের আকাশে নতুন মেঘ জমিয়েছে। এএফএর সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই। তিনি কি ডাগআউটে থাকবেন, নাকি বিদায় নেবেন—সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট হয়নি। বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর পর অবশ্য বিদায় নেওয়ার আভাসই দিয়েছিলেন।
তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন তাকে ২০৩০ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে চায় বলে গুঞ্জন আছে।

