ফের ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হতে যাচ্ছেন রবার্তো মানচিনি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো আজ্জুরিদের ডাগআউটে দেখা যাবে তাকে। এর আগে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ৬১ বছর বয়সী মানচিনির কোচ হতে যাওয়ার খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া জেন্নারো গাত্তুসোর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি। গত মাসে কাতার স্টার্স লিগের ক্লাব আল সাদের কোচের পদ ছাড়েন মানচিনি।
মানচিনির এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইতালি ২০১৮ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়েছে। গত এপ্রিলে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হারার পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গাত্তুসো।
ইতালিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জিওভান্নি মালাগো সংস্থাটির ফেডারেল কাউন্সিলের এক সভায় এই নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মানচিনিই কোচ।’
২০২২ বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হলেও মানচিনির অধীনে বড় সাফল্য পেয়েছিল ইতালি। তিনি দলটিকে ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতেছিল তারা।
প্রধান কোচ হিসেবে অবশ্য ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম পছন্দের প্রার্থী ছিলেন না মানচিনি। এমনকি পেপ গার্দিওলা ও কার্লো আনচেলত্তি উভয়েই দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর দৌড়ে এগিয়েছিলেন আন্দ্রেয়া পিরলো। কিন্তু জুয়া কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিতর্কের কারণে তার নামও আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেয় এফআইজিসি। শেষমেশ মানচিনিকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে তারা।
পিরলো বর্তমানে একটি রাশিয়ান বেটিং কোম্পানির (জুয়ার ওয়েবসাইট) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ইতালিতে কঠোর আইন রয়েছে। ফলে অনেকেই তার কোচ পদে নিয়োগের ব্যাপারে ঘোর বিরোধিতা করেন।
পিরলোকে প্রধান কোচ না বানানোর প্রেক্ষিতে এফআইজিসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ও তার উপদেষ্টা লিওনার্দো পদত্যাগ করেছেন। মাত্র ১৬ দিন আগে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

