এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সোমবার দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত, সেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও রাডারে ধারাবাহিক মার্কিন হামলার ফলে জলপথটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রোববার রাতে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়। জুলাইয়ের পর ইরানের বিরুদ্ধে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা। হরমুজ প্রণালিতে ইরান নতুন করে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন তথ্য শনাক্ত করার পর এই হামলা চালানো হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করেছে। তবে ইরান ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কিং হুসেইন ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, এসব হামলায় ঘাঁটির কারিগরি অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমান অবস্থান লক্ষ্য করা হয়েছে এবং এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আঞ্চলিক জলসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
ইরানের পাল্টা হামলার জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এর জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দেশটির বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা মুদ্রা কোনোটিই কার্যকর অবস্থায় নেই। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং দেশটির নেতারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম নন।
হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, রোববার একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির ওমানের কাছাকাছি দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের নৌবাহিনীর পুঁতে রাখা দুটি মাইনে আঘাত করে। এরপর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
পরে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ দিক দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা তিনটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল অনুমোদিত নয়।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে চলাচলকারী অন্য জাহাজগুলোকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের বিধিবিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক বলেও তারা জানিয়েছে।

