‘দানব’ হালান্ডকে নিজের চেয়ে ‘আলাদা ধাঁচের’ মনে করেন কেইন

শনিবার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। এই মহারণের আগে প্রতিপক্ষ শিবিরের ‘দানবীয়’ নাম্বার নাইন আর্লিং হালান্ডকে ‘গোলমেশিন’ আখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও কেইন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠে দুজনের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

ক্যারিয়ারের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেই হুলস্থুল ফেলে দিয়েছেন হালান্ড। প্রথম চার ম্যাচেই করেছেন ৭ গোল, যার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া সেই বিধ্বংসী জোড়া গোল। তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রেখেছে নরওয়ে।

এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনের চেয়ে টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোলে পিছিয়ে আছেন কেইন। এই নিয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যাকে ১৪-তে নিয়ে গেলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। 

হালান্ড ও কেইন দুজনেই মূলত স্ট্রাইকার। যাদের ফুটবলীয় ভাষায় বলা হয় ‘নাম্বার নাইন’। তবে দুজনেই একই পজিশনের খেলোয়াড় হলেও ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কেইন জানালেন তাদের ধরণ আলাদা, ‘আমার মনে হয় আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার খেলোয়াড়। দুজনেই স্ট্রাইকার হলেও মাঠে আমাদের ভূমিকাটা আলাদা।’

হালান্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়ে কেইন আরও বলেন, ‘আর্লিং অবিশ্বাস্য। তার গোল করার রেকর্ডই সব বলে দেয়। শারীরিকভাবে সে এক দানব, যেন আস্ত একটা মেশিন। তার ফিনিশিং নিখুঁত ও সর্বোচ্চ মানের।’

নিজের খেলার ধরন নিয়ে ইংলিশ অধিনায়কের মূল্যায়ন, ‘আমিও গোল পাচ্ছি, তবে নিজেকে ওর চেয়ে একটু আলাদা ভাবি। আমি একটু নিচে নেমে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পছন্দ করি, বিল্ড-আপ প্লে-তে জড়িয়ে থাকতে ভালোবাসি। অবশ্য প্রয়োজনে পুরোদস্তুর নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারি।’

নিজেদের মধ্যে কোনো তুলনার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ফুটবলার ও পেশাদার হিসেবে ওর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা। অবশ্যই চাইব আগামীকাল যেন ওর দিনটি ভালো না কাটে, তবে মানতেই হবে ও একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’

মাঠে গোলের বন্যা বইয়ে দিলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ড ও কেইন দুজনেই কিন্তু এখনো পিছিয়ে আছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে ইতিমধ্যেই ৮টি করে গোল করে চূড়ায় বসে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে।

এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন কেইন। তবে সেবার সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি তার।

ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের ট্রফি খরা কাটানোই এখন কেইনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। গোল করার চেয়ে থ্রি লায়নসদের বিশ্বজয়ের মঞ্চে তোলাই তার মূল লক্ষ্য।

কেইন বলেন, ‘বিশ্বমানের স্ট্রাইকাররা গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন—এই দিক থেকে এটি একটি দারুণ বিশ্বকাপ হচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টে সবসময় এমনটা দেখা যায় না।’

নিজের মানসিকতা নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এই তীব্র প্রতিযোগিতা আমাকে নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ জোগায়। আরেকটি গোল্ডেন বুট জেতার চেয়ে ট্রফি ছোঁয়াটাই আমার মূল স্বপ্ন। তবে আমি দলের প্রধান স্ট্রাইকার, তাই আমার পা থেকে গোল এলে তা স্বাভাবিকভাবেই দলের স্বপ্নপূরণ সহজ করবে।’

১৯৬৬ সালের পর বড় কোনো শিরোপা না জেতা ইংল্যান্ডকে বারবার সাফল্যের দুয়ারে নিয়ে গেছেন কেইন। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে গত দুটি ইউরোর ফাইনাল এবং বিগত দুই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।

ইতিহাস গড়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের শেষবারের মতো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার ডাক দিলেন কেইন। কারণ, আর মাত্র আট দিনে তিনটি ম্যাচ জিতলেই সোনালী ট্রফিটা ছোঁয়া সম্ভব।

কেইন বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরছি, ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে এই আলোচনা থামবে না। তবে আমরা এখন দারুণ অবস্থানে আছি। ছয় সপ্তাহ আগে ক্যাম্প শুরুর সময় আমরা ঠিক যেখানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিলাম, আজ সেখানেই দাঁড়িয়ে।’

দলের মানসিকতা নিয়ে কেইন আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। অনেক কঠিন মুহূর্ত আর বাধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। এখন স্বপ্নের একদম শেষ আট দিনের লড়াই। ট্রফি জিততে হলে আমাদের প্রত্যেকে জীবনের সেরা পারফরম্যান্সটা উজাড় করে দিতে হবে।’

Related Articles

Latest Posts