থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সহযোগী ও তার গ্রুপের অন্যতম শুটার মোহাম্মদ মোবারক ওরফে কালা মোবারককে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর আজ বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানায় পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকা অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে অপরাধীদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার এবং থানা থেকে লুট হওয়া একটি অত্যাধুনিক ৯ এমএমসহ দুটি পিস্তল, একটি রিভালবার ও একটি পাইপগান এবং ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধ ও আসামিদের ধরার সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজসহ ফটিকছড়ি থানার পাঁচ পুলিশ সদস্য।
মোবারক ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোহাম্মদ রাইহান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছিরকে (৫২)।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘রাউজানে মাসুদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে মোবারককে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তার হাতে দুটি অস্ত্র ছিল। একটি অস্ত্র থানা থেকে লুট করা। মোবারক নিজেই সেই অস্ত্র দিয়ে মাসুদের মাথায় গুলি করেছেন। মোবাইলে যুবদল নেতা মাসুদের ছবি পাঠিয়ে টার্গেট ফিক্স করে দিয়েছে আরেক পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম।’
তিনি জানান, মাসুদ হত্যায় সিসিটিভিতে দেখা যাওয়া পাঁচ অস্ত্রধারীর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালুর ব্যবসার বিরোধেই মাসুদতে হত্যা করা হতে পারে।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘সাজ্জাদ গ্রুপের একজন শুটার কালা মোবারক। চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীতে সরোয়ার বাবলা খুন থেকে শুরু করে রাউজান ও ফটিকছড়ির বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে তিনি অংশ নিয়েছেন।’
মাসুদ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছি, পুলিশের অস্ত্রটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ম্যাগাজিনসহ লুট হয়েছিল। তিনি (মোবারক) আমাদের বলেছেন, অস্ত্রটি একজনের কাছ থেকে এনেছেন।’
অভিযান সম্পর্কে এসপি বলেন, ‘আসামিদের ধরতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে। এ সময় পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে ফেললে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।’
পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আজিজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় মোবারক তার ফোন থেকে ছবি, ভিডিওসহ হোয়াটস অ্যাপ ডিলিট করে দেন, যাতে ধরা পড়লেও পুলিশ কোনো প্রমাণ উদ্ধার করতে না পারে। তবে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, পুলিশের অস্ত্র দিয়েই খুন করা হয় যুবদল নেতা মাসুদকে।’
অস্ত্র উদ্ধার ও পুলিশের ওপর গুলির ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় নতুন দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় তাদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজানে একটি বাজারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। গুলি করে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের বড় ভাই।

