তৌকীর আহমেদ আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগ্রামী পুরুষ

ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ—স্লোগানে অভিনয় শিল্পী সংঘের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল এক সেমিনার। 

একুশে পদক প্রাপ্ত তিন অভিনেতা—আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ ও আফজাল হোসেনের উপস্থিতিতে তৌকীর আহমেদের জীবনের নানা বিষয় উঠে আসে আলোচনায়। 

এসেছিলেন—মাহফুজ আহমেদ, আজিজুল হাকিম, খ ম হারুণ, দীপা খন্দকার, আপন আহসান, আজাদ আবুল কালাম, আরমান পারভেজ মুরাদসহ অনেক অভিনয়শিল্পী।

পিন্টু ঘোষের কণ্ঠে গান দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, মাহফুজ আহমেদসহ উপস্থিত শিল্পীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

এরপর শুরু হয় তৌকীর আহমেদের ৬০ বছরের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা। 

মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘সেই সময়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, থাকি মহসিন হলে। তৌকীর আহমেদ বুয়েটে পড়েন। তার একটা লাল রঙের মোটরসাইকেল ছিল। তৌকীর ভাই বইমেলায় যাবেন। আমি যাব হলে। আমাকে তার মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। সেই স্মৃতি আজও ভুলিনি।’

‘আরও অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে তার সাথে। এটুকু বলব, তৌকীর আহমেদ আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগ্রামী পুরুষ। তাকে ঈর্ষা করতাম। আজ বলছি, আপনি আমাদের শিক্ষক, ’ বলেন মাহফুজ। 

গাজী রাকায়েত বলেন, ‘৩৮ বছর ধরে তৌকীর আহমেদকে চিনি। আমিও বুয়েটে পড়তাম। একাডেমিকভাবে আমার এক বছরের বড় তিনি। তৌকীর আহমেদের ৬০ বছর হয়ে গেল এবং এজন্য অভিনয় শিল্পী সংঘ যে আয়োজন করেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা একজন শিল্পীকে সম্মান করছি।’ 

‘তৌকীর আহমেদকে আমার মতো পর্যবেক্ষণ কম মানুষই করতে পেরেছে। তার নির্মিত হালদা ও অজ্ঞাতনামা অসাধারণ দুটি সিনেমা। কথায় আছে শিল্পী বড় নাকি শিল্প! আমি বলব, শিল্পী বড়। তৌকীর আহমেদ তেমনই একজন শিল্পী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭৯ বছর বয়সে শেষের কবিতা লিখে গেছেন। তৌকীর আহমেদ ৬০ বছরে এসে আরও ভালো ভালো কাজ করবেন, ’ যোগ করেন তিনি।

আবুল হায়াত বলেন, ‘এখানে এসে ভাবলাম তৌকীর আহমেদের খারাপ দিকগুলো কী কী!  পেলাম না। তার সবই গুণ। তৌকীর আহমেদ একজন কমিটেড শিল্পী ও পরিচালক। সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবে তিনি একটা উদাহরণ। তার ভিশন আছে। তার বড় গুণ, বই পড়েন। তার সাথে একটা আড্ডা দিলে অনেক কিছু শেখা যায়। অনেক কিছু শিখি তার কাছ থেকে।’

‘যখনই কোনো মার্কেটে যায়, সবার প্রথম বই কেনে। আমার মেয়ে বিপাশাও বই পড়ে। হাসুলি বেগমের উপকথা নামে একটি ধারাবাহিক নির্মাণ করেছিলাম। সেখানে তৌকীর পাগলের চরিত্র করেছিল। আমি বলব, ওটা তার জীবনের সেরা অভিনয়। ৬০ বছরের জীবনের জন্য অভিনন্দন জানাই,’ বলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এ শিল্পী।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘তৌকীর আহমেদ একটি শৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। বহু গুণ তার আছে। পড়াশোনা করা মানুষ। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই তার পথচলা। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। আমি তার অগ্রজ। একসাথে আমরা অভিনয় করেছি। ৬০ বছর হয়ে গেল তার। অসাধারণ কাজগুলোই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তৌকীরকে বলব, আরও অনেক দূর যেতে হবে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘৬০ বছর পার করলেন তৌকীর আহমেদ। আমি বলব, জীবন কেবল শুরু হলো। আরও অনেক কিছু দিতে হবে। দীর্ঘ জীবন হোক। জীবনের মানে হচ্ছে কর্ম। যা ফুটে ওঠে তৌকীরের মধ্যে। বড় কথা হচ্ছে এখনো থিয়েটারকে ছেড়ে যায়নি। বিদেশেও থিয়েটার নিয়ে কাজ করছে।’ 

আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘তৌকীর আহমেদের সাথে আমার পরিচয় থিয়েটারের মাধ্যমে। তারপর বহু দিন কেটে গেছে। তার নির্মাণ, লেখালেখি, অভিনয়—অনেক গুণ। কাজ করেই যাচ্ছেন। থিয়েটারের প্রতি তার ভালোবাসা প্রবল।’ 

নিজের বক্তব্যে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘কষ্ট করে এসেছেন যারা, কৃতজ্ঞতা জানাই। বয়স একটা সংখ্যা। কর্মই আসল। চেষ্টা করেছি কাজের সাথে থাকতে। নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করেছি। কিন্তু মানসম্পন্ন কাজের বিষয়টি মাথায় রেখে সব করেছি।’ 

‘কাজের মান আমার কাছে অনেক কিছু। সামনে সিনেমা নির্মাণ করব। অজ্ঞাতনামা মঞ্চে আনব। সবার ভালোবাসা চাই,’ বলেন কর্মজীবনে ৬০ বসন্ত পেরোনো এ শিল্পী।

Related Articles

Latest Posts