তানজিদের ব্যাটে ডারউইনে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনও বাংলাদেশের

শতরানের জুটির পর মুমিনুল হক উইকেট বিলিয়ে সাজঘরে ফিরলেও তানজিদ হাসান তামিম ফিফটি তুলে নিয়ে খেলছেন সাবলীল ঢঙে। ক্রিজে গিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত থিতু হয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনও দারুণ কাটল বাংলাদেশের।

আগের দিনের ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে খেলতে নেমে মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৮১ রান। এই সেশনে ২৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান যোগ করেছে তারা। ফলে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ দল। হাতে ৮ উইকেট নিয়ে সফরকারীরা পিছিয়ে আছে মাত্র ১৭ রানে।

১৪৪ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৭৪ রানে খেলছেন ওপেনার তানজিদ। ৪০ বলে তিনটি চারে ২৮ রানে ব‍্যাট করছেন শান্ত। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার ৭০ বলে যোগ করেছেন ৪৩ রান।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ এই সংস্করণে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন। সেজন্য ১০২ বল লেগেছে তার। জশ হ্যাজেলউডের বলে সিঙ্গেল নিয়ে পঞ্চাশে পৌঁছে যান তিনি। ইনিংস বড় করে তার দৃষ্টি এখন সাদা পোশাকের ক্রিকেটে পরম আরাধ্য সেঞ্চুরির দিকে।

ভাগ্যও সঙ্গ দিচ্ছে স্মরণীয় ইনিংস খেলতে থাকা তানজিদকে। ব্যক্তিগত ৬২ রানে আরেক দফা জীবন পান তিনি। এদিন নিজের প্রথম ওভার করতে আসা অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। বল উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির কনুইয়ে লেগে যায় একমাত্র স্লিপে। সেখানে থাকা স্টিভ স্মিথ ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় নিতে পারেননি। এর আগে প্রথম দিনে ব্যক্তিগত শূন্য রানে তানজিদ জীবন পেয়েছিলেন লায়ন ক্যাচ ফেলে দেওয়ায়।

দিনের প্রথম ঘণ্টায় খেলা হয় ১৩ ওভার। এই সময়ে ৩৩ রান যোগ করার পথে তারকাখচিত অজি বোলিং লাইনআপকে কোনো সুযোগ দেননি তানজিদ ও মুমিনুল। ঝুঁকি না নিয়ে আঁটসাট থেকে রান তুলছিলেন তারা। ফিফটি স্পর্শের পর ৩৯তম ওভারে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বাউ ওয়েবস্টারকে লং অফের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন তানজিদ। অসাধারণ ওই শটে মুমিনুলের সঙ্গে তার জুটি ছুঁয়ে ফেলে একশ, ১৮৩ বলে।

দায়িত্বশীল তানজিদের পাশাপাশি আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন অভিজ্ঞ মুমিনুলও। তবে পরের ওভারে মনসংযোগে চিড় ধরে যায় তার। হ্যাজেলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হন। অথচ অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারতেন। ব্যাটের কানা স্পর্শ করে বল জমা পড়ে ক্যারির গ্লাভসে। মুমিনুলের সংগ্রহ ৯৫ বলে আটটি চারে ৪৯ রান। তার বিদায়ে থামে ১৮৯ বলে ১০২ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

দিনের শুরুতে অবশ্য চমক দেখায় অস্ট্রেলিয়া। তাদের একাদশে তিনজন বিশেষজ্ঞ পেসার থাকা সত্ত্বেও প্রথম ওভারটি করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ওয়েবস্টার। ওই ওভার থেকে আসে ৩ রান। এরপর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক আক্রমণে এলেও বল হাতে পেতে বেশ অপেক্ষা করতে হয় হ্যাজেলউডকে। তিনিই শেষমেশ ফাটল ধরান তানজিদ ও মুমিনুলের জমাট জুটিতে। এরপর তানজিদ ও শান্ত মিলে এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে।

মাঝে একটি রিভিউ হারায় উইকেটের খোঁজে মরিয়া থাকা অজিরা। ৩৩তম ওভারে স্টার্কের প্রথম ডেলিভারিটি মুমিনুলের প্যাডে লেগে যায় ক্যারির হাতে। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন কামিন্স। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে।

এর আগে প্রথম দিনে পেসারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট। দুটি করে শিকার ধরেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন।

Related Articles

Latest Posts