তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তার মূল দায়িত্ব প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো। তবে সুযোগ পেলেই গোল করার ক্ষমতাও যে তার আছে, সেটি বহুবার প্রমাণ করেছেন তপু বর্মণ। বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ডিফেন্ডার এবারও দেখালেন নিজের সেই দক্ষতা। তার জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার স্তাদিও অলিম্পিকো দে সেরাভেলেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের দুই গোলই এসেছে তপু বর্মণের কাছ থেকে।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য আরও বিশেষ, কারণ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ইউরোপের মাটিতে অভিষেক ম্যাচে পাওয়া এই সাফল্য নতুন অধ্যায়ের দারুণ সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই মাঠের নিয়ন্ত্রণে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। তবে আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল স্বাগতিক সান মারিনো। তারা মোট ১৩টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশ ৮টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে নিচের সারির দলগুলোর একটি সান ম্যারিনো। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১১ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে কাগজে-কলমে বাংলাদেশই ছিল ফেভারিট। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে ম্যাচ, নতুন কোচের অধীনে প্রথম পরীক্ষা এবং সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চাপ মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জেই দারুণভাবে উতরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। স্বাগতিকরা প্রথম দিকে আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের রক্ষণকে খুব বেশি ব্যস্ত রাখতে পারেনি। ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে জামাল ভূঁইয়ারা।

বাংলাদেশ প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসে ১৬তম মিনিটে। হামজা চৌধুরির ফ্রি-কিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে শেখ মোরসালিনের দারুণ ক্রসে তপু বর্মণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস গিয়াকোপেত্তি গোল করে সমতা ফেরান। এরপরই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে সাদ উদ্দিন সুযোগ নষ্ট করেন।

বিরতির পর কোচ থমাস ডুলি শমিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে নামালে বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন গতি আসে। সোহেল রানার সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়, আর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে মিতুল মারমা দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট এক হাতে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা ও ফাউল বাড়তে থাকলেও আবারও নায়ক হন তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরির আরেকটি নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই আবার লিড পায় বাংলাদেশ।

শেষ দিকে মিতুলের একটি ভুলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও বল গোললাইন অতিক্রম করেনি। যোগ করা সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ বাঁশির সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে স্মরণীয় জয় উদযাপন করে বাংলাদেশ।

Related Articles

Latest Posts