বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা যুক্তরাষ্ট্রে ‘আনন্দমেলা আজীবন সম্মাননা’ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিদেশে সম্মান পাওয়া তার জন্য গর্বের। একইসঙ্গে স্মরণ করেছেন, টেক্সাসের ডালাসে তার নামে ‘ববিতা ডে’ ঘোষণাকে, যা তিনি নিজের ও বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন।
ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান। তিনি একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাসহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা ববিতা গতকাল মঙ্গলবার ‘আনন্দমেলা আজীবন সম্মাননা’ গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘অনেক আনন্দিত আমি। বাংলাদেশের একজন শিল্পী হিসেবে আমেরিকায় এত বড় সম্মাননা পেলাম, আমাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হলো, এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আয়োজকদের প্রতি।’
তিনি বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে সারাজীবন অভিনয় করেছি। সেই অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে যখন নিজ দেশ থেকে এত দূরে এসে সম্মান পাই, তখন অনেক বেশি ভালো লাগে। নিজের দেশকে বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটা খুশির বিষয়। আর বিদেশে পুরস্কার বা সম্মাননা প্রাপ্তি দেশের জন্যও আনন্দের।’
ববিতা জানান, কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে ৫ আগস্ট ‘ববিতা ডে’ ঘোষণা করা হয়। তার মতে, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ঢাকাই চলচ্চিত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
২০২৩ সালে ডালাস বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ববিতা উপস্থিত ছিলেন। টেক্সাসের রিচার্ডসন সিটির মেয়র বব ডাব ‘ববিতা ডে’ ঘোষণা করেন এবং সেদিন তাকে এ সংক্রান্ত একটি সনদও দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ৫ আগস্ট ডালাসে ‘ববিতা ডে’ উদযাপিত হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে ববিতা বলেন, ‘এটা আমার জন্য এবং দেশের জন্য বিরাট বিষয়। আমি মনে করি ইতিহাসের অংশ। কেননা, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র শিল্পী ববিতার জন্য “ববিতা ডে” ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রতি বছর ৫ আগস্ট তা পালন করা হচ্ছে। আমরা কেউই থাকব না, কিন্তু দিনটি পালিত হবে। আমি সত্যিই মুগ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘সত্যিই আমি অনেক বেশি ভাগ্যবতী। বিদেশে এত বড় সম্মান সারাজীবন মনে রাখব।’
ভারত থেকেও ববিতা আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। কলকাতায় টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডের ১৭তম আসরে তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সম্মাননা পেয়ে আসা এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রথমে কৃতজ্ঞতা। এরপর দর্শকদের প্রতি। আর দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে এমন সম্মাননা যারা দিচ্ছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

