নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল-ইন ব্যালট বা ডাকযোগে ভোটে নতুন বিধিনিষেধ আরোপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত এক ফেডারেল বিচারকের আদেশ বহাল রেখেছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে (ইউএসপিএস) নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছিল।
মার্চে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে ডাক বিভাগের ব্যালটের খামে আলাদা বারকোড চালু এবং মেইল-ইন ব্যালট পাওয়া ভোটারদের তথ্য অনলাইন পোর্টালে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এ আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করে।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, নির্বাচনী জালিয়াতি ঠেকাতেই তিনি মেইল-ইন ভোটে নতুন বিধিনিষেধ আনতে চান।
ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২৪টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, পরিবর্তনগুলো ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছাতে বাধা দিতে পারে।
সাতজন রিপাবলিকান নির্বাচন কর্মকর্তাও বিবিসিকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে নিয়ম বদলালে ‘ভুল, বিলম্ব ও বিভ্রান্তি’ তৈরি হবে।
বিবিসি জানায়, স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ চালালেও আদালতের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এলে তা মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা করছেন।
জর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টির নির্বাচন পরিচালক অ্যান ডোভার বলেন, এতে ‘হাজার হাজার মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত’ হতে পারেন।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাও বলেছেন, মামলার পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত নিয়মটি ট্রাম্পের পক্ষে যেতে পারে। বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন। ওরেগন, ওয়াশিংটন ও কলোরাডোর মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এই ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।
ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্পের জন্য এটি প্রথম আইনি ধাক্কা নয়। জুনে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানোর সিল মারা ব্যালট গণনার অনুমতি দেয়।

