বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ঊর্ধ্বমুখী দাম সামাল দিতে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির সাত দেশের জোট জি৭।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী চার মাসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এই জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
জি৭ নেতাদের বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর জি৭ এই সিদ্ধান্ত নিল। জোটটি জানিয়েছে, পদক্ষেপটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানিপণ্য রপ্তানিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না।
জি৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স। জোটের বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও প্রতিনিধিত্ব করে।
ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের মজুত থেকে আরও জ্বালানি বাজারে ছাড়তে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এতে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারত। তবে অন্য দেশগুলোতে দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউরোপ তাদের বিপুল মজুত থেকে বড় পরিমাণ ডিজেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের একা বহন করতে দেওয়া উচিত নয়।
পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি ‘আসলে কখনোই বিবেচনায় ছিল না’। জি৭-এর মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যা করেছে, তা দারুণ।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইউরোপের কাছে প্রচুর ডিজেল রয়েছে। তারা বিশ্বে বড় অবদান রাখতে যাচ্ছে, আমরাও রাখব। আমরা রপ্তানি নিষিদ্ধ করছি না, বরং আমাদের যা করা উচিত, তা-ই করছি।’
বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহের শুরুতে প্রথমবার ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবারও তিনি বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন। এ সময় ইউরোপকে নিজেদের মজুত বাজারে ছাড়তে চাপ দিচ্ছিল তার প্রশাসন।

