গত শনিবার বিকেলে অটোয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হিসেবে বাজার শান্ত রাখার কাজে অভ্যস্ত এই মানুষটির সেদিনের ভাষা ছিল কঠোর ও আক্রমণাত্মক।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডার মানুষকে অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বসন্তে আমি সতর্ক করেছিলাম যে, আমেরিকা আমাদের ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চায়, যাতে তারা আমাদের ওপর মালিকানা খাটাতে পারে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা কখনোই হতে দেওয়া হবে না। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে সংবাদ সম্মেলনের এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। পরে এক সাংবাদিক কার্নিকে প্রশ্ন করেন, তার এমন গম্ভীর ও যুদ্ধংদেহী সুরের কারণ কী। শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে কার্নি বলেন, ‘আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। যখন কেউ আপনাকে আক্রমণ করে, তখন আপনিও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরি শুল্ক আরোপ ও আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে কানাডার এই অবস্থান দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে নজিরবিহীন সংকটে ফেলেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের একের পর এক উসকানিমূলক পদক্ষেপ দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশে সই করা এবং কানাডার নেতৃত্বকে ‘নিষ্ঠুর’ বা ‘ন্যাস্টি’ বলে আখ্যা দেওয়া।
পত্রিকাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাণিজ্যযুদ্ধ কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। কার্নির সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষকে একত্রিত করেছে জাতীয়তাবাদী আবেগ। তবে এর পেছনে কানাডাকে যে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।
একজন অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, যার আগে কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ছিল না, তার এমন লড়াকু রাজনৈতিক চরিত্রে রূপান্তর অনেককেই চমকে দিয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে যারা কার্নির সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের কাছে এই পরিবর্তন মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং নিজের অবস্থানে অনড় থাকার জন্য পরিচিত।
২০১৩ সালে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হওয়ার পর থেকে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট বিতর্ক পর্যন্ত তার কর্মজীবন ছিল নানা রাজনৈতিক লড়াইয়ে ভরা। ব্রেক্সিটের সময় ব্রিটেনে মন্দার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করে তিনি কনজারভেটিভ পার্টির নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং সুকৌশলে সংকট মোকাবিলা করেছিলেন, যা তার যোগাযোগ দক্ষতারও পরিচয় দেয়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও কার্নি তার কঠোর কর্মপদ্ধতি ধরে রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
তিনি মন্ত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফাইলের খুঁটিনাটি তথ্য চান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। আবাকাস ডেটার পোলস্টার ডেভিড কোলেটোর একটি সমীক্ষা তুলে ধরে গার্ডিয়ান বলেছে, কার্নি সরকার এখন ‘যুদ্ধ ছাড়াই এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সরকার’ পরিচালনা করছে।
ট্রাম্পের আগ্রাসনের জবাবে কার্নি তার দলের প্রচলিত অনেক নীতি থেকেও সরে এসেছেন। তিনি পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর কার্বন ও বৈদ্যুতিক যানবাহনবিষয়ক বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছেন, তেল পাইপলাইনের মতো বড় প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন দিয়েছেন এবং প্রতিরক্ষা খাতে শত শত কোটি ডলার বরাদ্দ বাড়িয়েছেন।
এত বড় পরিবর্তনের পরও কানাডীয়দের মধ্যে কার্নির জনপ্রিয়তা একইরকম আছে।
সাম্প্রতিক এক ভাষণে কানাডীয়দের উদ্দেশে কার্নি বলেন, ‘কানাডিয়ানরা আবহাওয়া দেখে দমে যায় না, আমরা এতেই বিকশিত হই। আমরা বাতাস কোন দিকে বইছে, তা দেখার অপেক্ষায় বসে থাকি না। আমরা নিজেরাই নিজেদের পথ নির্ধারণ করি। আমরা আমাদের নিজেদের আবহাওয়ার স্রষ্টা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ মেটার কোনো লক্ষণ এখনো নেই।
প্রায় ১৮ মাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেসব দেশের ওপর প্রথম শুল্ক আরোপ করেছিল, কানাডা ছিল তাদের অন্যতম। জবাবে কানাডাও প্রথম দেশগুলোর একটি হিসেবে সমান ও নির্দিষ্ট পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।
বিবিসির পাঁচটি চার্ট সম্বলিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। এর বাইরে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে।
জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ‘ডলারের বদলে ডলার’ এবং ‘কৌশলগত’ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, নতুন এসব শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রয়েল ব্যাংক অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে কানাডার ওপর মার্কিন গড় কার্যকর শুল্কের হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে কম। নতুন শুল্কের পর তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছে। হারটি যুক্তরাজ্যের ৬ দশমিক ২ শতাংশ বা ভিয়েতনামের কাছাকাছি।
তবে চীনের ওপর মার্কিন গড় শুল্কের হার এখনো প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই বাণিজ্যযুদ্ধ দুই দেশের অর্থনীতিতে ভিন্ন মাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
বিবিসির চার্ট ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার প্রদেশগুলোর মধ্যে অন্টারিও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এই প্রদেশটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র।
ইস্পাত ও গাড়ির ওপর মার্কিন শুল্কের কারণে অন্টারিওর বেশ কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সংযোজন কারখানায় কর্মী ছাঁটাই এবং উৎপাদন কমেছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এই উৎপাদন খাতে চাকরি হারিয়েছেন হাজারো কর্মী।
এদিকে কয়লা, তামা ও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী কুইবেক প্রদেশের ধাতব রপ্তানি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩৬ শতাংশ কমেছে।
রয়েল ব্যাংক অব কানাডার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অন্টারিও ও কুইবেক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আলবার্টা, সাসকাচোয়ান বা প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডের মতো প্রদেশগুলো শুল্কের মুখোমুখি হয়েছে কম।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার অনেক বড় হওয়ায় কানাডার পাল্টা শুল্কের প্রভাব সেখানে তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে কিছু অঙ্গরাজ্য এরই মধ্যে এর প্রভাব টের পাচ্ছে।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত থেকে শুরু করে আসবাবপত্র, প্রসাধন সামগ্রী ও টয়লেট পেপারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার তথ্য তুলে ধরে বিবিসি জানিয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুইং স্টেট’ ওহাইও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়ছে।
এর পরেই রয়েছে ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়া। ওহাইওর ইস্পাত ও ওয়াশিং মেশিন এবং ইলিনয়ের ‘জন ডিয়ার’ কোম্পানির কৃষি ও নির্মাণ যন্ত্রপাতির ওপর কানাডীয় শুল্ক বড় প্রভাব ফেলছে।
স্কটিয়াব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ডেরেক হোল্টের মন্তব্য উদ্ধৃত করে বিবিসি বলেছে, কানাডার পাল্টা শুল্ক খুব সচেতনভাবেই এমন কিছু সুইং স্টেটকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য প্রতিনিধি ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিকের একটি বিশেষ কলাম প্রকাশ করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
সেখানে জোয়েলিক বলেছেন, কানাডার ওপর ট্রাম্পের ক্রমাগত চাপ ও উসকানিমূলক আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজের স্বার্থের জন্যই ক্ষতিকর, এমনকি আত্মঘাতীও হতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ওই কলামে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রেসিডেন্টরা বুঝতেন যে একটি ঐক্যবদ্ধ উত্তর আমেরিকা তাদেরকে আরও নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু ট্রাম্প কানাডাকে নিজের অধীনে আনতে চান, অথচ নিজে যেকোনো সময় চুক্তি বা শর্ত পরিবর্তনের স্বাধীনতা রাখতে চান।
জোয়েলিকের মতে, কানাডার অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, অথচ কানাডাকে সেই ধাতব পণ্য বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে।
তিনি লেখেন, ট্রাম্পের এই আচরণ কানাডীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এটি খুব একটা জনপ্রিয় নয়।
শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-ইপসসের এক জরিপে উঠে এসেছে, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কানাডাকে।
কলামটিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একটি সংহত উত্তর আমেরিকা বিশ্বমঞ্চে মার্কিন শক্তির প্রভাব বিস্তারের মূল ভিত্তি।
উত্তর আমেরিকার তিন প্রধান গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একসঙ্গে কাজ করলে জ্বালানি স্বনির্ভরতা, খনিজ সম্পদ ও উৎপাদন দক্ষতায় তারা চীনের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তা প্রায় সম্পূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ। এর পেছনে রয়েছে দুই দেশের বিশাল বিনিয়োগ। কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
এছাড়া ৭৫ শতাংশ আমেরিকান ইউএসএমসিএ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ভালো বলে মনে করেন। ৮১ শতাংশ মনে করেন, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে।
তাই ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্ব নষ্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের নিজের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কানাডার অর্থনীতি আপাতত কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত। ২০২৫ সালে কানাডায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৯৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ।
তবে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যযুদ্ধ কানাডার শ্রমবাজারে বড় ধরনের আঘাত আনতে পারে।
ব্যাংক অব কানাডার তথ্য তুলে ধরে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির উৎপাদন খাতে ইতিমধ্যে ৫৫ হাজার চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ট্রেভর টোম্বের সতর্কবার্তা উল্লেখ করে পত্রিকাটি বলেছে, মার্কিন শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো কানাডাজুড়ে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ কাজ হারাতে পারেন।
এই সংকটের সময়ে কানাডীয়দের গভীর দেশপ্রেমের সঙ্গে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক চিন্তাও ধরে রাখতে হবে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক জোসেফ স্টেইনবার্গ বলেছেন, কানাডার মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ধরনের নতি স্বীকার করতে পুরোপুরি নারাজ, এমনকি তা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী হলেও।
তবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্নি সরকার রপ্তানি বাজার বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকেই কানাডার অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রপ্তানি বাড়িয়েছে।
টরন্টোভিত্তিক পোশাক কোম্পানি ‘আউটক্লাস’-এর মালিক মাতেও স্কারামেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তিনি এখন নিউইয়র্কের বদলে প্যারিসের প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন এবং ইউরোপীয় বাজারে তার পণ্যের ভালো সাড়া পাচ্ছেন।
স্কারামেলা বলেন, ইউরোপীয়রা কানাডার এই লড়াইকে সমর্থন করছে। তাদের চোখে কানাডা এমন একটি দেশ, যে আমেরিকার আগ্রাসনের সামনে একা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে।
কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী দশকে তিনি কানাডার অ-মার্কিন রপ্তানি দ্বিগুণ করতে চান। এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে টরন্টোতে প্রথম ‘কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজন করতে যাচ্ছে তার সরকার।
কানাডার জনগণের এই বিপুল সমর্থনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কার্নির আসল পরীক্ষা।
শুল্কের কারণে বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করলে এবং কারখানাগুলোতে চাকরি কমলে জনগণের এই দেশপ্রেমের আবেগ ধরে রাখা এবং তাদের আশ্বস্ত করাই হবে কার্নির জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্নি ভবিষ্যতে আবার আলোচনার টেবিলে বসলে তাকে অত্যন্ত সুকৌশলে জনগণকে বোঝাতে হবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেও একটি ভালো অর্থনৈতিক চুক্তি অর্জন করা সম্ভব।

