টাকার চেয়ে স্বীকৃতি বড়: বঞ্চিত ক্রীড়াবিদদের ক্ষোভ

দেশের ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাদের জাতীয় পে-রোল সম্প্রসারণ করে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি স্থিতিশীল আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলা। তবে দেশের কিছু নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়াবিদের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনো সেইসব ডিসিপ্লিনে পৌঁছাতে পারেনি, যেগুলো তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্বশীল।

২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক বেল্ট জয়ের কৃতিত্ব গড়া পথপ্রদর্শক সুরা কৃষ্ণ চাকমা এখনো সরকার মনোনীত স্পোর্টস কার্ড তালিকায় জায়গা পাননি। ১০টি পেশাদার লড়াইয়ে ৮টি জয়ের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও চাকমার মতে, যেসব ক্রীড়াবিদ কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে না।

আজ এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের হতাশা প্রকাশ করে সুরা কৃষ্ণ বলেন, ‘অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আমি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার মনোনীত স্পোর্টস কার্ডের তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাইনি। আমাদের মতো কম প্রতিনিধিত্বশীল খেলাগুলোর জন্য এই স্পোর্টস কার্ড সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও, তা সংশোধন করে চলতি অর্থবছরে ৩০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রত্যেককে মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। বাকি ২০০ জন ক্রীড়াবিদকে আগামী অর্থবছরে এই সুবিধার আওতায় আনার কথা রয়েছে।

সুরা কৃষ্ণ আরও বলেন, ‘বিভিন্ন খেলায় জাতীয় দলে থাকা অনেক ক্রীড়াবিদ বছরের পর বছর নীরবে দেশের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন, অথচ এখনো স্পোর্টস কার্ড পাননি। আমার মনে হয় অর্থ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু স্বীকৃতি টাকার চেয়েও বেশি সম্মানের।’

এই বঞ্চনার অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন ট্রায়াথলেট মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাতও। একাধিক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় পডিয়াম ফিনিশসহ তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণভাবে কোনো প্রচলিত ফেডারেশনের সহায়তা ছাড়াই।

গতকাল ফেসবুকে আরাফাত লিখেছেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আর কী করা বাকি আছে, আমি জানি না! এই খেলাটির জন্য কোনো (সমর্থনদাতা) ফেডারেশন নেই, তবুও নিজের প্রচেষ্টায় তিনি এতদূর এসেছেন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সম্ভবত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে এই যাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে যেত।’ 

Related Articles

Latest Posts