জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে প্রভাব, সেটা এত ন্যূনতম যে, খাদ্যমূল্যের ওপর এটার কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাবে পড়বে না।’
‘যদি মূল্যস্ফীতি ঘটেও, এর অভিঘাত যাতে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অনুভব না করেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইন্টারভেনশন করতে পিছ পা হবে না,’ যোগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স বিষয়ক সভা শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যূনতম স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটুকু সমন্বয় নেহায়েত প্রয়োজন ছিল।’
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ঘটে দুইভাবে—চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেল, সেটার কারণে মূল্যস্ফীতি অথবা কস্ট পুশ ইনফ্লেশন; মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্যস্ফীতি ঘটে। আমাদের দেশে এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩৭ বা ৮ দশমিক ৪ শতাংশের মতো। আমরা দুটি ভাগ করি, ফুড ইনফ্লেশন ও নন-ফুড আইটেম ইনফ্লেশন। আমাদের নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তদের ডিসপোজেবল ইনকামের বড় অংশটা ব্যয় হয় খাদ্যের মূল্য বহন করতে। খাদ্যমূল্য ও ঘর ভাড়াতেই নিম্নবিত্তদের পুরো টাকাটা শেষ হয়ে যায়।’
‘তারপরেও আমাদের আর্থিক ভিত্তির নিচের দিকে যারা আছেন, প্রান্তিক গোষ্ঠীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের অনেকগুলো সামাজিক কর্মসূচি আছে। তার বাইরে আমাদের টিসিবি আছে, টিসিবির ৭৮ লাখ উপকারভোগী আছে, ৪ কোটি পরিবার, যাদের প্রতি মাসে আমরা স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহ করি,’ যোগ করেন তিনি।
মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আবার দুটি ঈদের সময় আলাদা করে ট্রাক সেল করা হয়, যাতে এই উপকারভোগীদের বাইরেও একটা বড় অংশ সরাসরি এটার উপকার নিতে পারেন। একইভাবে আপনারা দেখেছেন যে, কিছু দিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন—ফ্যামিলি কার্ড। একেকটা পরিবারকে প্রতি মাসে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আস্তে আস্তে বিস্তার হবে। প্রথম পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ৫০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধাভোগীদের আওতায় আনা।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মার্কেট পারফেক্ট না। আমাদের অর্থনীতি ওইভাবে বিকশিত, পরিপূর্ণ একটি অর্থনীতি না।’
‘এখানে মূল্যস্ফীতিটা যতটা না বাস্তব কারণে হয়, অনেক সময় স্পেকুলেশনের কারণে হয়। দেখা গেল যে, কোনো একটি পণ্য কেনার জন্য আমরা সবাই একদম অস্থির হয়ে গেলাম। এমন অস্থির হয়ে গেলাম যে, এক বিকালে সেই পণ্য নাই করে দিলাম বাজার থেকে। সাত দিনের জিনিস একদিনে কিনে ফেললাম,’ যোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
জিনিসপত্রের দাম ও আমদানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত দেখেছি যে, আমাদের আমদানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে।’
বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একটু কম আছে। আবার খোলা সয়াবিন পর্যাপ্ত আছে। যেটি হয়তো নির্ধারিত মূল্য থেকে অল্প কিছু বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এই ব্যাপারটি আমরা নজরে রেখেছি এবং এই বিষয়ে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৮-২০ কোটি মানুষের দেশ এটা। কোনো কোনো পণ্য তার ভলিউমের কারণে সব ব্যবসায়ীর পক্ষে সেই ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব না। কারণ একেকটা আমদানির পেছনে প্রচুর টাকা লাগে। সে জন্য বড় স্কেলের ব্যবসায়ী হতে হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য আমরা আমদানিকারকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’
‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, এই সরকার মানুষের মনোনীত-নির্বাচিত সরকার। এই সরকার কোনো ব্যক্তি বা কোনো গুটি কয়েক ব্যক্তির হাতে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি হতে দেবে না,’ যোগ করেন তিনি।

