জেডি ভ্যান্স, উইটকফ ও আরাঘচির সঙ্গে আসিম মুনিরের রাতভর আলোচনা

আজ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার ৩৮তম দিন। এই দীর্ঘ সংঘাতে বিশ্বের অসংখ্য দেশের মানুষ বড় আকারে প্রভাবিত হয়েছেন। বিভিন্ন মহল থেকে আসছে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি। 

এই পরিস্থিতিতে জানা গেছে, ইরানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সংগে রাতভর আলোচনা করেছেন। 

আজ সোমবার এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন এক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

ওই সূত্র জানান, ইতোমধ্যে ‘সহিংসতা বন্ধের’ একটি খসড়া প্রস্তাব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এই প্রস্তাব পাওয়ার এক দিন আগেই ‘চুক্তি না করলে’ তেহরানকে নরকে পরিণত করার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অপরদিকে, তেহরানও সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কথা বলেন পাকিস্তানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা। পাশাপাশি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও ওই প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

সূত্র জানান, শান্তি পরিকল্পনায় দুইটি ধাপ রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চালু হবে। পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে সংঘাত বন্ধ করা হবে। 

সোমবার রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে আগ্রহী নয় তেহরান। 

তিনি জানান, প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সময় নতুন করে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। 

রোববার প্রথম গণমাধ্যম হিসেবে অ্যাক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও এ অঞ্চলের মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। 

সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে স্থায়ীভাবে এই সংঘাতের নিরসন হবে। 

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের আল্টিমেটাম আজ সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল

কিন্তু এরপর বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি অস্পষ্ট বার্তা দেন ট্রাম্প। 

পোস্টে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম!’

বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের জন্য নতুন আল্টিমেটাম। এই বার্তা অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত ইরান ‘চুক্তিতে আসার’ সময় পাচ্ছে। 

এর আগে ট্রুথ সোশালের অপর এক বার্তায় ট্রাম্প হুমকি দেন, ‘ইরানে মঙ্গলবার হবে “বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস” ও “সেতু দিবস”—সবগুলোই একসঙ্গে ঘটবে। এর মতো ভয়াবহ কিছু আগে কখনো ঘটেনি।’

অশালীন শব্দ ব্যবহার করে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেন। ইরানকে উদ্দেশ্য করে গালি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘…তোমাদের জায়গা হবে নরকে। শুধু অপেক্ষা করো!’

আজ সোমবারও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশ হামলার খবর পাওয়া গেছে।

Related Articles

Latest Posts