জুলাই আন্দোলনে ‘ঢাল’ হয়ে থাকা নারী মুখগুলো কেন হারিয়ে গেল?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের রাজপথে যে দৃশ্যটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তা হলো, নারীদের দৃঢ়, সংগঠিত ও সম্মুখসারির উপস্থিতি। মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেওয়া, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছেনো, চিকিৎসা দেওয়া, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, তথ্য যাচাই করে ছড়িয়ে দেওয়া—সবক্ষেত্রেই নারীরা ছিলেন দৃশ্যমান ও কার্যকর। অনেক ক্ষেত্রে তারা শুধু অংশগ্রহণকারী ছিলেন না, নেতৃত্ব দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নির্ধারণ করেছেন আন্দোলনের গতিপথ।

রাজপথ স্লোগানে মুখর রাখা, মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া, প্রিজন ভ্যান আটকে দেওয়া, লাঠিসোটার সামনে পিছপা না হওয়া—আন্দোলনে এভাবে নারীদের অংশগ্রহণের দৃশ্যগুলো সাহস জুগিয়েছে লাখো মানুষের মনে।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও রাজনীতির আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় সেই নারীরা হঠাৎই যেন ম্লান হয়ে গেলেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন থেকে শুরু করে সংস্কার প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর পুনর্গঠন এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় ছিল অনেক কম। সেই কারণে সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন—রাজপথের সেই সাহসী মুখগুলো কোথায় হারিয়ে গেল?

নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের পর নারীদের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত কাঠামোগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক একাধিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, রাষ্ট্র ও রাজনীতির আনুষ্ঠানিক কাঠামো শুরু থেকেই পুরুষকেন্দ্রিক হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি সীমিত থাকে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও পরবর্তীতে নারীদের সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেওয়ার মতো পূর্বপ্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল না। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের জন্য ঘোষিত কোটা বাস্তবায়নে আন্তরিক না হওয়া এবং সংরক্ষিত আসনে তাদের সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা নারী ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য নারীদের দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিতে টিকে থাকার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই নারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন নারী সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলনের সময় ১৪ জুলাই রাতে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের গেট ভেঙে বেরিয়ে আসা ছিল একটি প্রতীকী মুহূর্ত, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে। এরপর ইডেন কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেয়। শুধু শিক্ষার্থী নয়, মায়েদের অংশগ্রহণও এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। তারা পানি ও খাবার নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলনকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত করে।

এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আন্দোলনের সময় নারীরা শুধু মিছিলেই অংশ নেননি, বরং চিকিৎসা, আশ্রয়, খাদ্য সরবরাহ—সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘ঢাল’ হিসেবে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের আক্রমণের সময় মেয়েরা মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে সহপাঠীদের রক্ষা করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ছেলেদের হলগুলোতে তালা দেওয়া হলে কোনো নির্দেশনা ছাড়াই মেয়েরা বেরিয়ে এসে সুরক্ষা ঢাল হয়েছেন।

সময়ের প্রয়োজনে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নারীরা জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারিতে দাঁড়িয়েছিলেন বলে মনে করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, একটা আন্দোলনের তো নানা দিক থাকে। নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক নাফসিন মেহনাজ আজিরিন বলেন, যখন নারীরা রাজপথে নেমেছেন, তখন আন্দোলনটি আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছে জনগণের আন্দোলন। নারীদের উপস্থিতি সাধারণ পরিবারগুলোকে আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছে এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।

তবে দৃশ্যপটটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আন্দোলনের পরপরই নারীদের দৃশ্যমানতা কমতে শুরু করে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। ডিসেম্বরে নারী সংস্কারসহ আরও পাঁচটি কমিশন গঠন হয়। নারী বাদে বাকি ১০টি সংস্কার কমিশনে প্রধান ও সদস্য মিলিয়ে মোট ৯৭ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ১৫ জন এবং কোনোটারই প্রধান হিসেবে নারী ছিলেন না। কেবলমাত্র নারী সংস্কার কমিশনে প্রধান ও সদস্য মিলিয়ে ছিলেন ১০ জন, যারা সবাই নারী।

নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক বলেন, ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় থেকেই নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। উপদেষ্টা পরিষদে নারী সদস্য ছিল খুবই কম এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যেও কোনো নারীকে রাখা হয়নি।

‘২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত প্রথম ছয়টি কমিশনে নারী সংস্কার কমিশন ছিল না। পরে ডিসেম্বরে এটিসহ আরও পাঁচটি কমিশন হয়। গঠনের পর আমরা অন্যান্য কমিশনগুলোর সঙ্গে বসতে চেয়েছি। সবাই ইতিবাচক থাকলেও সংবিধান সংস্কার কমিশন আমাদের সঙ্গে বসার জন্য সময় দেয়নি। তারা বলেছিল, তাদের কাজ শেষ পর্যায়ে হওয়ায় বসার প্রয়োজন নেই। এছাড়া পরবর্তীতে গঠিত ঐকমত্য কমিশনেও নারী কমিশনসহ দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত পাঁচ কমিশনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, আমরা নারী সংস্কার কমিশন যেদিন প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম, প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই একটি পক্ষ বিশাল জনসভা করে আমাদের প্রতিবেদনকে বাতিল ঘোষণা করল, আমাদের গালাগালি করল, অপমান করল। কিন্তু, গোটা উপদেষ্টা পরিষদ নীরব থাকল। সেই পরিস্থিতিতে কেবল একজন উপদেষ্টা আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন কিনা। আমি বলেছিলাম, আমার নিরাপত্তা নিয়ে না ভেবে কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে ভাবলে খুশি হবো।

‘জুলাই সনদ ঘোষণার দিন পরিষ্কার হয়ে গেল যে আমরা আবার পুরুষ আধিপত্যকেই প্রতিষ্ঠা করলাম,’ যোগ করেন শিরীন পারভিন হক।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজের ভাষ্যে, রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়া নারীদের অনেককেই আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় দেখা যায়নি।

‘সমস্যাটা নারীদের যোগ্যতার নয়, ক্ষমতার কাঠামোয়। এই কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে নারীদের প্রবেশ ও টিকে থাকা—দুটোই কঠিন’, যোগ করেন তিনি।

নুসরাত তাবাসসুম মনে করেন, আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল দায়িত্ববোধ থেকে। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে সেটা আর সংগঠিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণে রূপ নেয়নি।

‘আন্দোলনে অংশ নেওয়া আর সংগঠিত রাজনীতিতে টিকে থাকা এক নয়। বিদ্যমান কাঠামোয় যে সমস্যা আছে, সেটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এটিও ঠিক, অনেক নারী রাজনৈতিক সংগঠন বা পূর্বপ্রস্তুতির অভাবে পরবর্তীতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেননি’, বলেন তিনি।

উমামা ফাতেমার মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত ক্ষমতা দখল ও ধরে রাখার একটি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়, যেখানে নারীরা ঐতিহাসিকভাবেই পিছিয়ে।

‘রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং পারিবারিক বা রাজনৈতিক ব্যাকআপ প্রয়োজন হয়, যা অধিকাংশ নারীর নেই,’ বলেন তিনি।

জুলাই সনদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ৩০০ আসনের মধ্যে ন্যূনতম ৫ শতাংশে নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলও তা মানেনি। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তাদের ১০ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু, যেখানে তারা ৫ শতাংশই পূরণ করেনি, সেখানে ১০ শতাংশ পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করে উমামা ফাতেমা বলেন, দলগুলো নারীদের কথা আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে বললেও প্রকৃতপক্ষে তার বাস্তবায়ন হয় না। সবশেষ নির্বাচনেও সেই চিত্র আমরা দেখেছি। একে তো নারীদের যথাযথভাবে মনোনয়ন দেওয়াই হয় না। অন্যদিকে যোগ্য নেত্রীদের সরাসরি নির্বাচনে না এনে সংরক্ষিত আসনে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।

নারীদের রাজনীতিতে না আসা কিংবা এসেও সরে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ নিরাপত্তাহীনতা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলোচনায় আসা ১৫ নারীকে নিয়ে করা ১৩৯টি পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডেইলি স্টার। এর মধ্যে ৮৮টি, অর্থাৎ ৬৩ শতাংশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ গালি, অবমাননাকর ভাষা বা নারীদের চরিত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। এরপরেই ছিল বডি-শেমিং, যা অন্তত ২২টি পোস্টে পাওয়া গেছে। আক্রমণকারীরা নারীদের রাজনৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, তাদের নৈতিকতা নিয়ে আক্রমণ করেছে এবং লিঙ্গভিত্তিক অপমান করে তাদের নীরব রাখার চেষ্টা করেছে।

নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাস্তবসম্মত নয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে নারীরা অনেক সময় নিজেদের ঘরেও নিরাপদ বোধ করেন না।’

সাইবার বুলিং ও নারীর চরিত্রহননচেষ্টার দিকটি তুলে ধরে নাফসিন মেহেনাজ বলেন, পুরুষ রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে মতবিরোধ হলে সেটা সাধারণত যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা হয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। তার পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার—সবকিছু আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকা অনেকের জন্য কঠিন।

সাইবার স্পেসে নারীদের হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘এই ধরনের আক্রমণ শুধু ব্যক্তিকেই নয়, তার পরিবারকেও প্রভাবিত করে এবং নারীদের জনপরিসর থেকে সরিয়ে দেয়।’

নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যও বড় বাধা বলে মনে করেন নুসরাত তাবাসসুম।

তিনি বলেন, অনেক নারী আয় করলেও সেই অর্থ ব্যবহারে স্বাধীনতা পান না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও বৈষম্য রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নারী ক্ষমতায়নকে সীমিত করে।

উচ্চশিক্ষায় যাতায়াত ও আবাসনের সীমাবদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের আবাসিক হল বেশি থাকার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি কাঠামোগত বৈষম্য, যা নারীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলে।

উমামা ফাতেমা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, নির্দিষ্ট সংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং তা না মানলে দলগুলোর জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের প্রস্তাবও দেন, যাতে নারীরা প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান।

নুসরাত তাবাসসুম মনে করেন, কোটা বা প্রণোদনার চেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ ও সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরি করা এবং মানসিকতার পরিবর্তন ও নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।

নাফসিন মেহেনাজ বলেন, ‘নারীদের আমরা শুধু সংকটের সময় প্রয়োজন মনে করি, নাকি রাষ্ট্র গঠনেও তাদের সমান অংশীদার হিসেবে দেখতে প্রস্তুত? জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছিলেন না, ছিলেন আন্দোলনের চালিকাশক্তির অংশ। কিন্তু সংকট শেষ হওয়ার পর তাদের “প্রতীকী” উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নারী নেতৃত্ব ব্যক্তিগত সাহসের ওপর নির্ভর করতে পারে না, এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির।’

শিরীন পারভিন হক বলেন, নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়—এটা সরকার বা ক্ষমতাসীনদের বুঝতে হবে। জনসংখ্যার ৫১ ভাগকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নারীদের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা থাকতে হবে, ন্যায্যতার-সমতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সরকার চাইলেই সেটা সম্ভব।

তিনি জানান, নারী সংস্কার কমিশনের ৪২০টি সুপারিশ থেকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় ৫১টি সুপারিশের একটি তালিকা তারা তৈরি করেছেন। নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে তারা আলোচনায় বসতে চান।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব। রাতারাতি সব বদলে যাবে না, কিন্তু শুরুটা হবে। যেগুলো তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করা; যেগুলো দীর্ঘমেয়াদি, সেগুলোর ক্ষেত্রে শুরুটা অন্তত করা। এভাবেই পরিবর্তন আসবে।’

‘জুলাইয়ে রাজপথে নারীরা যে সাহস, নেতৃত্ব ও সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। সেই শক্তিকে যদি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তাহলে এই গণঅভ্যুত্থানের একটি বড় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই, বাংলাদেশে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে নারীরা শুধু আন্দোলনের সময় নয়, বরং নীতি নির্ধারণের জায়গাতেও সমানভাবে গুরুত্ব পাবেন’, যোগ করেন শিরীন পারভিন হক।

Related Articles

Latest Posts