ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী প্রধান কোচ হচ্ছেন না আন্দ্রেয়া পিরলো। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক তারকা।
জেন্নারো গাত্তুসোর পদত্যাগের পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) পরবর্তী কোচ হতে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন পিরলো। তবে রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে পিরলোর নাম আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দিয়েছে সংস্থাটি।
পিরলো বর্তমানে একটি রাশিয়ান বেটিং কোম্পানির (জুয়ার ওয়েবসাইট) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ইতালিতে কঠোর আইন রয়েছে। ফলে অনেকেই তার কোচ পদে নিয়োগের ব্যাপারে ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিরলো নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আর আজ্জুরিদের কোচ হওয়ার দৌড়ে নেই।
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পিরলো লিখেছেন, ‘প্রতিষ্ঠান, ফেডারেশন ও এর সাথে জড়িত সকলের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি এত দিন নীরব থাকাটাই বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু গত রাতে যখন জানতে পারলাম, আমি আর ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রার্থী নই, তখন আমার মনে হয়েছে যে, কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমার নাম এবং ইতালি জাতীয় দলের টেকনিক্যাল কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমি চরম তিক্ততার সাথে খেয়াল করেছি। আমার ক্যারিয়ারে, শুরুতে একজন ফুটবলার হিসেবে এবং এখন একজন কোচ হিসেবে, আমি সর্বদা যে দেশে কাজ করেছি, সেখানকার আইন ও আমার স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।’
৪৭ বছর বয়সী পিরলো আরও লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়বস্তু যে পেশাদার চুক্তিটি, তা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কাজের অংশ এবং এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াকেন্দ্রিক। এই ধরনের কাজকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, আমার ওপর এমন সব বিশ্বাস বা মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া, যা আমি কখনোই প্রকাশ করিনি এবং যা আমি ধারণও করি না।’
সবশেষে তিনি যোগ করেছেন, ‘আমার প্রতি সম্মান ও আস্থা দেখানোর জন্য আমি (এফআইজিসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর) পাওলো মালদিনি ও (টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের উপদেষ্টা) লিওনার্দোকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তাদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার কথা জানি। আমার আক্ষেপ হচ্ছে যে, খেলাধুলা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তকে দ্রুতই এমনভাবে জনসমক্ষে টেনে আনা হয়েছে, যার পরিণতিতে আমার ওপর এমন সব উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যা কখনোই আমার নয়। ইতালির প্রতি ভালোবাসা কোনো পদের ওপর নির্ভর করে না। এটি আমার পথচলা ও আমার পরিচয়ের একটি অংশ এবং এটি সব সময় আমার সাথেই থাকবে।’
প্রধান কোচ হিসেবে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম পছন্দের প্রার্থী ছিলেন না পিরলো। তবে পেপ গার্দিওলা ও কার্লো আনচেলত্তি উভয়েই চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দলটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তিনিই দৌড়ে এগিয়েছিলেন।
এর আগে প্রধান কোচ হিসেবে ইউভেন্তাস ও সাম্পদোরিয়ায় বেশ কঠিন সময় পার করেছেন পিরলো। সিরি আর এই দুটি ক্লাবেই মাত্র এক মৌসুম করে টিকতে পেরেছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দল দুবাই ইউনাইটেডের দায়িত্বে রয়েছেন।
তবে ইতালির কিংবদন্তি সাবেক ডিফেন্ডার মালদিনি ও তার উপদেষ্টা লিওনার্দো বরাবরই পিরলোর শক্ত সমর্থক। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিরলোকে নিয়োগ না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের জেরে তারা দুজনেই নিজেদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।
২০১৮ আসর থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ ইতালি এখন রবার্তো মানচিনি বা আন্তোনিও কন্তের দিকে ঝুঁকতে পারে। তাদের উভয়েই এর আগে আজ্জুরিদের কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। মানচিনির অধীনে ২০২০ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও জিতেছিল দলটি।
উল্লেখ্য, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইতালি। এই গ্রুপে আরও রয়েছে তুরস্ক ও ফ্রান্স।

