চোরিপান কী, কেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের এত প্রিয়

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়। পৃথিবীর নানা দেশে এটি একটি সংস্কৃতির পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে খাবার। আমেরিকায় ফুটবল মানেই টেইলগেট পার্টি, বেসবল মানেই হটডগ ও চিনাবাদাম। ইংল্যান্ডে স্টেডিয়ামের পাই যেন ম্যাচডে ঐতিহ্যেরই অংশ। ঠিক তেমনই আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে চোরিপান।

নামটি শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এটি কেবল খাবার নয়। বরং চোরিপান হলো তাদের আবেগ, পরিচয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের প্রতীক।

চোরিপানের রেসিপি খুবই সহজ। কয়লার আগুনে ধীরে ধীরে গ্রিল করা হয় একটি চোরিজো সসেজ। এরপর সেটিকে মাঝ বরাবর কেটে মচমচে রুটির মধ্যে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে কেউ যোগ করেন ঝাঁঝালো চিমিচুরি সস, কেউবা কাঁচা পেঁয়াজ ও মরিচের সালসা ক্রিওয়া।

স্বাদে-গন্ধে অসাধারণ হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হয়তো খুব খুশি হবেন না। কারণ একটি চোরিপানে প্রায় ৪৫০ ক্যালোরি থাকে। তবু আর্জেন্টিনাবাসীদের কাছে এটা এতটাই জনপ্রিয় যে, একবার খেলে দ্বিতীয়বার হাত বাড়াতে বাধ্য হন অনেকেই।

দেশটির বারবিকিউ পার্টি চোরিপান ছাড়া যেন কল্পনাই করা যায় না। আবার অনেক সময় এই স্যান্ডউইচই পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামের বাইরে ম্যাচ শুরুর আগে যে দৃশ্য দেখা যায়, তা প্রায় উৎসবের মতো। দূর থেকেই ভেসে আসে ধোঁয়া আর গ্রিল করা মাংসের গন্ধ। ফুটবলপ্রেমীরা মাঠে ঢোকার আগে কিংবা খেলা শেষে ভিড় করেন ছোট ছোট চোরিপানের দোকানে।

বোকা জুনিয়র্স, রিভার প্লেট, সান লরেঞ্জো কিংবা দেশের অন্য বড় ক্লাবগুলোর মাঠের আশপাশে এই দৃশ্য বহু বছরের পুরোনো।

আর্জেন্টিনার খ্যাতিমান সাংবাদিক ও প্রযোজক সেবাস্তিয়ান গার্সিয়ার ভাষায়, ‘বিদেশে থাকলে যে জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশি মিস করি, তার একটি হলো ম্যাচের আগে বা পরে চোরিপান খাওয়া। স্টেডিয়ামের দিকে হাঁটতে হাঁটতে গ্রিলের ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া মানেই বুঝে যাওয়া, ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে।’

আর্জেন্টিনার রাজনীতিতেও চোরিপানের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। দেশটিতে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল কিংবা প্রতিবাদ কর্মসূচি চোরিপান ছাড়া প্রায় কল্পনাই করা যায় না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের জন্য এটি যেমন সস্তা ও সহজলভ্য খাবার, তেমনি সামাজিকতারও একটি মাধ্যম।

এ কারণে চোরিপানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ব্যঙ্গ করে বলে থাকেন, মানুষ নাকি কেবল একটি চোরিপান ও এক বোতল কোমল পানীয়ের জন্য সমাবেশে আসে।

তবে বাস্তবতা হলো, এই খাবার বহু দশক ধরে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে।

Related Articles

Latest Posts