চিলিতে বিটিএসের কনসার্ট স্থগিত, রাস্তায় নেমে লাখো ভক্তের বিক্ষোভ

বিটিএসের কনসার্ট মানেই উৎসব। আর সেই উৎসব হঠাৎ থমকে গেলে ভক্তরা যে চুপ করে বসে থাকবেন না, সেটাই দেখা গেল চিলিতে। সরকারের সিদ্ধান্তে অক্টোবরে নির্ধারিত বিটিএসের তিনটি কনসার্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়তেই হাজারো ভক্ত রাজপথে নেমে জানিয়ে দিলেন, জাতীয় স্টেডিয়ামেই বিটিএসের কনসার্ট চাই।

কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার দেশটির রাজধানী সান্তিয়াগো যেন বেগুনি রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। বিটিএসের বিশ্বজোড়া ফ্যানডম আর্মিরা শত শত সদস্য বেগুনি পোশাক পরে, হাতে বেগুনি বেলুন ও নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন। কেউ গাইছিলেন প্রিয় ব্যান্ডের গান, কেউ আবার ছন্দ মিলিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

বিটিএসের ‘আরিরাং’ বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে আগামী ১৪, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সান্তিয়াগোর এস্তাদিও নাসিওনাল স্টেডিয়ামে তিনটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। প্রতিটি শোতে প্রায় ৪৮ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকার কথা। ১৬ ও ১৭ অক্টোবরের টিকিট এপ্রিলেই মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় আয়োজকরা ভক্তদের চাহিদা মেটাতে ১৪ অক্টোবর আরও একটি অতিরিক্ত শো করার ব্যবস্থা করে।

কিন্তু সেই আনন্দে হঠাৎই ছেদ পড়ে। চিলি সরকার জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত স্টেডিয়ামে এই কনসার্ট আয়োজন করা যাবে না। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভক্তরা।

মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় লা মোনেদা প্রাসাদ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। পথে পথে ভক্তরা বিটিএসের গান গেয়েছেন, নেচেছেন, প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেছেন।

চিলির ক্রীড়ামন্ত্রী নাতালিয়া দুকো অবশ্য আশার কথাও শুনিয়েছেন। তার ভাষায়, কনসার্টগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়নি। তবে আপাতত সান্তিয়াগো কিংবা কাছাকাছি ভিনা দেল মার বা কনসেপসিওন শহরে এমন কোনো ভেন্যু নেই, যেখানে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব।

তাহলে আপত্তিটা কোথায়?

সরকারের ব্যাখ্যা, বিটিএসের বিশাল ৩৬০ ডিগ্রি স্টেজ তৈরির জন্য স্টেডিয়ামের মাঠের ওপর প্রায় ৬০০ টন ওজনের চাপ পড়বে। এতে মাঠের ঘাস ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরবর্তীতে খেলার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে। এ কারণেই স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সরকার আরও অভিযোগ করেছে, কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান ডিজি মেডিওস স্টেডিয়াম ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগেই টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। ফলে হাজার হাজার ভক্ত টিকিট কেনার পর পুরো পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এখন চিলির আর্মিরা একটাই আশা করছেন, সরকার, আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে দ্রুত একটি সমাধান বের করবে।

Related Articles

Latest Posts