স্টার ওয়ার্স’-এর স্রষ্টা জর্জ লুকাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণের ভবিষ্যৎ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, চাকরি ও শিল্পসত্তার মালিকানার ওপর এর প্রভাব নিয়ে হলিউডজুড়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলেও, ভবিষ্যতে সৃজনশীল প্রক্রিয়ার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে এই প্রযুক্তি।
‘অ্যা র্যাবিটস ফুট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কালজয়ী বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘স্টার ওয়ার্স’-এর স্রষ্টা লুকাস জানান, এআই ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজকে ‘অনেক সহজ’ করে তুলেছে।
লুকাসের মতে, প্রথম যখন রাস্তায় মোটরগাড়ি নামানো হয়েছিল, তখনও অনেকে এর বিরোধিতা করেছিলেন। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অনিবার্য—একে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
৮২ বছর বয়সী লুকাসের মতে, এআইকে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক বিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা ও উৎস যাচাই করতেও এআই সহায়তা করতে পারে।
তার মতে, কৃত্রিমভাবে তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রমেই আরও পরিশীলিত ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় জেনারেটিভ এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে যখন বিনোদন শিল্পে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে, তখনই এসব মন্তব্য করলেন এই নির্মাতা।
২০২৩ সালে এসএজি-এএফটিআরএ ধর্মঘটের সময় এআইয়ের ব্যবহার সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে ওঠে। তখন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকাররা দাবি করেন, স্টুডিওগুলো যেন তাদের সম্মতি বা পারিশ্রমিক ছাড়া এআই ব্যবহার করে চিত্রনাট্য তৈরি বা শিল্পীদের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করতে না পারে। এটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিতেরও দাবি জানান তারা।
লুকাস হলিউডের দর্শকদের দিয়ে কনটেন্ট পরীক্ষা করানোর (অডিয়েন্স টেস্টিং) ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতারও সমালোচনা করেন।
তার মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় স্টুডিওগুলো ফোকাস গ্রুপ ও ভক্তদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
‘লোকজন কী দেখতে চায়, তা তারা নিজেরাই জানে না,’ বলেন লুকাস। তার মতে, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য তাদের মতামত কাজে লাগতে পারে, কিন্তু সেই মতামতের ভিত্তিতে সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
লুকাসের মতে, অনেক স্টুডিও ফোকাস গ্রুপের ফলাফল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এবং পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারদের সুস্পষ্ট সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আস্থা রাখার পরিবর্তে দর্শকদের পছন্দ অনুযায়ী চলচ্চিত্র তৈরি করছে।
তার ভাষায়, একটি চলচ্চিত্র সফল হয় আবেগময় গল্প এবং নিবেদিতপ্রাণ নির্মাতাদের সৃজনশীলতার কারণে, সবার প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করার কারণে নয়।

