চট্টগ্রামে চাঁদা দাবিতে হামলা: কিশোর গ্যাংয়ের দিকে ইঙ্গিত পুলিশের, নগরীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের আশঙ্কা

চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নগরীর বাকলিয়া অ্যাক্সেস সড়কের ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরের হামলার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিভাগের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)।

ডিডিএন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি নম্বর থেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া একজন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ব্যবসা করতে চাইলে এককালীন ২ কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা’ চাঁদা দাবি করেন। পরদিন আবার ফোন করলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে সোমবার দুপুরে ধারালো অস্ত্রধারী ৩০-৩৫ জন হঠাৎ ডিডিএন কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাঙচুর শুরু করে। তারা কার্যালয় থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে প্রায় পাঁচ মিনিট পর চলে যায়। হামলাকারীদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল।

পুলিশের ধারণা, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ হামলায় অংশ নিয়ে অফিসটিতে লুটপাট চালায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশ কয়েকজন হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারে আমাদের দলগুলো কাজ করছে।’

‘হামলাকারীদের অধিকাংশের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা নিজেদের পরিচয় লুকাতে মাস্ক পরেছিল। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হতে পারে। আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি,’ বলেন তিনি।

এ হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম আইএসপিএবি নেতারা বিকেল ৪টার দিকে জামালখান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও পরে মানববন্ধন করেন।

চট্টগ্রাম আইএসপিএবির আহ্বায়ক রাজীব শাহরিয়ার রুবেল বলেন, ‘এই জঘন্য হামলার পর আমাদের কর্মীরা চরম আতঙ্কিত ও নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন। তারা নিরাপত্তার কারণে অফিসে যেতে চাচ্ছেন না। কর্মীরা না গেলে অফিস কে চালাবে? এতে এ অঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।’

হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, ডিডিএনের কাছে চাঁদা দাবি করে ফোন দেওয়া ‘ডেভিড ইমন’ হলেন পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের পক্ষে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই প্রধান ব্যক্তির একজন মোবারক হোসেন।

সিএমপি ও ডিবি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বড় সাজ্জাদ গ্রুপের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোরদের দলে টানছে। এই নতুন সদস্যরা বড় সাজ্জাদের নামে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ফোন করে চাঁদা দাবি করছে, হুমকি দিচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts