গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালায় একটি মাদ্রাসার মাঠে লাল পতাকা টানিয়ে খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশের বানিয়ারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূঁইয়া।
আজ মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়ারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠের একটি অংশে কয়েকটি খুঁটি স্থাপন করে তাতে লাল কাপড়ের পতাকা টানানো হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মাঠের ওই অংশে শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। টিফিনের সময় কিংবা ক্লাসের ফাঁকেও কোনো শিক্ষার্থীকে সেখানে খেলতে দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিখা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই। সামনের অংশে শুধু ইট বিছানো একটি জায়গা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাশের মাদ্রাসার বড় মাঠটি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করে আসছে।
তিনি বলেন, এখন সেখানে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। শিশুরা অল্প সময় খেলাধুলা করতে চায়, সেটিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক।
শিখা আরও বলেন, শুধু খেলাধুলা নয়, শিশুদের কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলেও অনেক সময় অনুমতি পাওয়া যায় না। ছুটির দিনে অনুষ্ঠান করার সুযোগ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাঠের ওই অংশে সাতটি খুঁটি স্থাপন করে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়। এরপর থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে পারছে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই মাঠের দুই পাশে রয়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এক পাশে বানিয়ারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্য পাশে বানিয়ারচালা জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদ্রাসা। মাঠের অধিকাংশ জমির মালিকানা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করে আসছিল।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, লাল পতাকা টানানোর পর থেকে তারা মাঠের ওই অংশে যায়নি। তারা আবার মাঠে খেলতে চায়।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, গত রোববার মাঠে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে নিজেদের মালিকানাধীন অংশে আপাতত খেলাধুলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বানিয়ারচালা জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা মোবারক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

