শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে আহত জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী নেতাকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
হামলার শিকার দুজন হলেন আহত জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। মিন্টু বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
সেসময়ের কিছু ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। এতে দেখা যায়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ ইমরান আল নাজিরকে থাপ্পর মারছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর। মারতে মারতে তাকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাকির হোসেন মিন্টুর (আদর) ঘাড়ে ও পিঠে মারতে মারতে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
ইমরান আল নাজির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের আমন্ত্রণে আমরা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবরসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করতে করতে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেন। পুরো ঘটনার সময় প্রশাসনকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
জাকির হোসেন মিন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর হঠাৎ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবর আমাকে দেখে বলেন, “তুই কে?”। উত্তরে তাকে বলি আমি আহত জুলাই যোদ্ধা। এরপর তারা আমার ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করতে করতে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়।’
প্রশাসনের সামনে এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলমকে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় অবদান বিএনপির। জামায়াতের আমিরও স্বীকার করেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। ইমরান আল নাজিরসহ শরীয়তপুরের এনসিপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করে আসছেন। আজও তারা একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমরা তাদের মারধর করিনি।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সব জুলাই যোদ্ধাকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পুরো অনুষ্ঠান শেষ করেছি। মারধরের বিষয়ে আমি এখনো পুরোপুরি জানি না। আমি সভাস্থলে যাওয়ার আগে ঘটেছে কি না, আমরা জানা নেই। বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।’

