ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটে গত ১৪ আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটের যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকরা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেজিংয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার কারণে ফেরি চালু করা যাচ্ছে না।
রৌমারী-চিলমারী রুটে ২০২৩ সালে ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানিয়েছে, এরপর থেকে গতকাল (১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭৭ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটে ৫৬৬ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
নৌকায় ব্রহ্মপুত্র পার হতে বেশি খরচ হয়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। ফেরিতে কম খরচে ও নিরাপদে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু নাব্যতা সংকট বলে প্রায়ই কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল
বন্ধ করে রাখে, বলেন এই রুটের যাত্রীরা।
যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রাকচালকরা।
কুড়িগ্রাম থেকে ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করেন সাহেদ আলী। এই চালক জানান, ব্রহ্মপুত্র হয়ে রৌমারী, রাজিবপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে পণ্য সরবরাহ সহজ। সড়ক পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হয়।
‘ফেরি চলাচল আবার কবে শুরু হবে সেটাও কর্তৃপক্ষ বলছে না,’ বলেন তিনি।
রৌমারীর ব্যবসায়ী শামসুল হক বলেন, ‘ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা পণ্য আনতে পারছি না, পণ্য পাঠাতেও পারছি না।’
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকা ও ২০০ বিঘায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই এলাকায় ড্রেজিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল সম্ভব হবে না।
‘ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৫ আগস্ট আমি যোগাযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষ বলেছে, আরও দুটি ড্রেজিং মেশিন
পাঠাবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত পাঠায়নি,’ বলেন তিনি।
ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সমির চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, ‘রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধায় খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। কেবল ২০০ বিঘাতে খনন চলছে। তারা বলছেন, ড্রেজিং করলে ভাঙন দেখা দেয়। সেই কারণে তারা ড্রেজিং করতে বাধা দিচ্ছেন।’
‘বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে,’ যোগ করেন সমির।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ড্রেজিংয়ে বাধা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আজ-কালের মধ্যে সমাধান হবে।’
‘জনদুর্ভোগ নিরসনে ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

