কঠিন পরিস্থিতি সামলে এমবাপে এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত, জানালেন দেশম

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর তীব্র লড়াইয়ের পর দেশটির সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য সইতে হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপেকে। এই ঘটনায় কড়া বিবৃতিও দিয়েছিলেন তিনি। তিক্ত অবস্থা পার করে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন, এমনটাই জানালেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

ভীষণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও স্লেজিং নির্ভর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। ওই ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের এক সিনেটর ফরাসি ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যেসব মন্তব্য বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও এমবাপে নিজে।

খেলার বাইরের এই ইস্যু মনোযোগ বিশ্বকাপ থেকে কিছুটা সরিয়ে নিলেও এমবাপে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে নামার আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম ফরাসি অধিনায়কের মানসিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন এবং জোর দিয়ে জানান যে এই ফরোয়ার্ড অবিচলিত আছেন।

দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। মানসিক স্তরে সে একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং আমি আর সে বিষয়ে ফিরে যেতে চাই না। সে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী এক তরুণ। তার পুরো মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচের দিকে, যা খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে কারণ আমাদের কাছে এমন দুটি দল রয়েছে যাদের যোগ্যতা আছে এবং কেবল একটি দলেরই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কিলিয়ান ভালো আছে, দলের বাকিদের মতোই, এবং সে আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’

ফরাসি কোচ কেবল মানসিক প্রস্তুতিই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট—এমন ধারণাটি উড়িয়ে দিয়ে ৯০ মিনিটের শারীরিক পারফরম্যান্সের দিকেই আবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন, ‘দলের মানসিকতা আপনাকে ম্যাচ জেতায় না, তবে আমি খুব ভালো করেই জানি যে এটি আপনার ম্যাচ হারার কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র সত্য সেটাই যা মাঠের মধ্যে ঘটে।’

একটি দীর্ঘ মৌসুম জুড়ে খেলোয়াড়দের যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে বলতে গিয়ে দেশম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কীভাবে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝাতে ফ্রান্সের আগের টুর্নামেন্টের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এমন কিছু সময় আসে যা কিছু খেলোয়াড়ের জন্য কম-বেশি কঠিন হয়। আপনারা কিলিয়ানের কথা বলছেন, এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সে যে চোট পেয়েছিল, তার পর তার যাত্রা সেখানেই থেমে যেতে পারত। এবং আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই, যদিও আমরা সেই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম, তবুও আমরা আক্রমণভাগে ভুগেছিলাম কারণ দুর্ভাগ্যবশত বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।’

দেশম অধিনায়ক হিসেবে এমবাপের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেন, ‘কিলিয়ানের বিষয়ে ফিরে আসি, সে অধিনায়ক এবং এই ভূমিকাটি পুরোপুরি ধারণ করে চমৎকারভাবে তা পালন করছে। সে খুব ভালো করেই জানে যে তার আচরণ পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে বিষয়গুলো সামলে নেয়। আমি বলছি না যে তারা নিজস্ব নিয়ম তৈরি করে, তবে সেখানে এক ধরনের বোঝাপড়া থাকে, কারণ এক, দুই বা তিনজন খেলোয়াড় কখনো কখনো এমন পেশাদার বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে যা তাদের স্বাভাবিক রূপের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। আর এখানেই সবাইকে সমর্থন করার জন্য দলের ভূমিকা সামনে আসে।’

 

Related Articles

Latest Posts