বন্যার কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ মেরামতের পর আজ রোববার দুপুরে প্রথমে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ এবং পরে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ওই অংশ অতিক্রম করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইনটি চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। এরপর দোহাজারী পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাইন উদ্দিন মামুন জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জান আলী হাট স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
অন্যদিকে জান আলী হাট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, সকালেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ দুপুর ২টার দিকে একই অংশ সফলভাবে অতিক্রম করে কক্সবাজারের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস মাঝপথে আটকে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গিয়েছিল। তবে রেললাইন বাঁকা বা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাথর পুনর্বিন্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি উঁচু করার কাজ শেষ করার পর আজ থেকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

