এস আলমের প্রতিষ্ঠানের ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে রিটের চূড়ান্ত শুনানি করবেন না হাইকোর্ট

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম (সাইফুল আলম) সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রতিষ্ঠানের ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ অপরাগতা প্রকাশ করায় গতকাল বুধবার মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন শুনানি হলেও হাইকোর্ট বেঞ্চ জানান, রিট আবেদনটি আংশিক শ্রুত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রধান বিচারপতি এখন এই রিট আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল মাওলা ব্যাংকের পক্ষে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেন।

পিটিশনে বলা হয়, এই ২৪ কোম্পানির জন্য ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার রাখা ব্যাংক কোম্পানি আইনের লঙ্ঘন।

রিট আবেদন অনুযায়ী, শেয়ারগুলো জেএমসি বিল্ডার্স, বিটিএ ফাইন্যান্স, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল, এবিসি ভেঞ্চার্স, এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, প্ল্যাটিনাম অ্যান্ডেভার্স, এক্সেলসিয়র ইমপেক্স কোম্পানি, গ্র্যান্ড বিজনেস, লায়ন হেড বিজনেস রিসোর্সেস, বিএলইউ ইন্টারন্যাশনাল, আরমাডা স্পিনিং মিলস, কিংসওয়ে অ্যান্ডেভার্স, ইউনিগ্লোভ বিজনেস রিসোর্সেস, সলিড ইন্স্যুরেন্স পিসিসি, হোলিস্টিক ইন্টারন্যাশনাল, হাই ক্লাসিক বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, ক্যারোলিনা বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি, ব্রডওয়ে ইমপেক্স কোম্পানি, পিকস বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, এভারগ্রিন শিপিং, ম্যারাথন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কিংসটোন ফ্লাওয়ার মিলস এবং পারসেপ্টা অ্যান্ডেভার্স—এই ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ।

গত বছরের ১১ মার্চ প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট একটি রুল ও কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন।

আদালত ২৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এবং এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া ওই শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

রুলে ব্যাংক কোম্পানি আইন না মেনে ২৪ প্রতিষ্ঠান কোন ক্ষমতাবলে এসব শেয়ার নিয়েছে এবং কেন ওই শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

পরে হাইকোর্টে এই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। গত ২২ জুলাই আদালত এ বিষয়ের পরবর্তী শুনানি ২৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন।

এর আগে ব্যাংকের অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার ‘ইসলামিক ইকনোমিকস রিসার্চ ব্যুরোকে’ (আইইআরবি) এই রিট আবেদনে বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয়।

আদালতে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম, আইইআরবি-র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।

Related Articles

Latest Posts