ম্যাচের তখন ৮৭তম মিনিট চলছে, জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ধারে জিরোনায় খেলা ভিতর রেইসের হাতের আঘাতে ডি-বক্সে পড়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকার মুখ থেকে রক্ত ঝরতে থাকলেও রিয়ালের তোলা পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দিলেন না রেফারি।
হতাশা বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা আর পায়নি লস ব্লাঙ্কোরা। শুক্রবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১-১ গোলে ড্র করে লা লিগার শিরোপার লড়াই থেকে আরও দূরে সরে গেছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে ১১ মিনিট পরই ফরাসি মিডফিল্ডার থমাস লেমারের দারুণ এক লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে জিরোনা।
ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার রেইস অনিচ্ছাকৃতভাবে এমবাপেকে আঘাত করেছেন ভেবেই হয়তো কোনো হস্তক্ষেপ করেননি রেফারি আলবার্তোলা রোহাস। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর ক্ষোভ গোপন করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা দেখাননি রিয়ালের কোচ আলভারো আরবেলোয়া, ‘আমার কাছে, এটি স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল, সেটি এখানে হোক কিংবা চাঁদে— যেখানেই হোক না কেন। এটি তালিকায় যুক্ত হওয়ার মতো আরও একটি নতুন ঘটনা… সপ্তাহ যায় আর নতুন নতুন ঘটনা ঘটে। এটাই এখন আমাদের বর্তমান বাস্তবতা।’
৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় দুই নম্বরে আছে হোঁচট খাওয়া রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। আজ শনিবার রাতে নিজেদের ডেরা ক্যাম্প ন্যুতে এস্পানিওলের বিপক্ষে জিতলে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আরবেলোয়া কাঠগড়ায় তোলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদেরও (ভিএআর), ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। এটি যখন ইচ্ছে তখন নাক গলায়, আবার যখন ইচ্ছে তখন নিশ্চুপ থাকে। আমার দৃষ্টিভঙ্গি আপনারা জানেন এবং একের পর এক ঘটনা সেটিই প্রমাণ করছে। এটি একটি পরিষ্কার বিষয়… অথচ এর চেয়ে অনেক ছোটখাটো ফাউল এমবাপ্পের বিরুদ্ধে ধরা হয়েছে।’
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন রয়েছে ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি। লা লিগায় গত সপ্তাহে মায়োর্কার মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। এরপর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে একই ব্যবধানে পরাজয় মানে রিয়াল।
লা লিগায় মাত্র সাতটি ম্যাচ বাকি থাকায় রিয়ালের শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। তাই এবারের মৌসুমে কোনো ট্রফি প্রাপ্তির সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে বায়ার্নের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি এখন তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বুধবার রাতে ফিরতি লেগে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যদের মুখোমুখি হবে তারা।

