মো. আসাদুজ্জামান দেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে চলছে বিতর্ক ও সমালোচনা। এসব বিষয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারর মুখোমুখি হয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাহরাম খান।
দ্য ডেইলি স্টার: মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরোনো আইন ফিরছে। বর্তমান কমিশনের কী হবে?
মো. আসাদুজ্জামান: সংসদে পাস হওয়া বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান কমিশন আর থাকবে না। এখনো আইনের গেজেট হয়নি, কাজেই তারা (কমিশন) বহাল আছে।
দ্য ডেইলি স্টার: এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যাদেশ রাখলেন না, ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
মো. আসাদুজ্জামান: রাখলাম না মানে আমরা রাখব না, সেটা বলিনি। আরও অধিক যাচাই-বাছাই করে আইন করব।
দ্য ডেইলি স্টার: এটা তো আশ্বাস। রাজনৈতিক আশ্বাসে মানুষের বিশ্বাস কম থাকে।
মো. আসাদুজ্জামান: এটা শুধু রাজনৈতিক আশ্বাস নয়। এটা এখন বিলের অংশ (রহিতকরণ ও হেফাজতকরণ) হয়ে গেছে।
দ্য ডেইলি স্টার: রাজনৈতিক সরকারগুলো মানবাধিকার বিষয়ে কঠোর আইন করতে চায় না। তৈরি অধ্যাদেশটি বাতিল না করলে হতো না?
মো. আসাদুজ্জামান: এই অধ্যাদেশ তো একটা জগাখিচুড়ি কাজ হয়েছে। কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলে স্যুয়োমোটো (স্বপ্রণোদিত) বা কারও অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নিতে পারবে কমিশন। কোনো ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্ত দুইভাবে এগোনোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন কত দিনের মধ্যে দিতে হবে তা থাকলেও অনুসন্ধান শুরুর কোনো সময়সীমা নেই।
অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পেলে সেটা তদন্তে দেবেন। কিন্তু অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কত দিনের মধ্যে তদন্তে দেবেন, সেটা উল্লেখ নাই, তবে তদন্ত প্রতিবেদন কত দিনের মধ্যে দেবেন সেটা আছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে শুনানি করে কমিশনের জরিমানা করার ক্ষমতা রাখা হলেও জরিমানার ভিত্তি ও কত টাকা জরিমানা হবে, সেটা উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত, কমিশন ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারবে। কিন্তু কত টাকা ক্ষতিপূরণ, কী ক্ষতিপূরণ হবে তার কোনো গাইডলাইন নাই। তৃতীয়ত, কমিশন ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দিতে পারবে। চতুর্থত, কমিশন নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে। কোয়াসি জুডিশিয়াল বডির (আধা বিচারিক সংস্থা) মতো কাজ পরিচালনার পর কারও পক্ষে মামলার বাদী হওয়ার যুক্তি কী? তাহলে দুই পক্ষকে নিয়ে বসার দরকারটা কী?
দ্য ডেইলি স্টার: আইনে তো সব বিষয় থাকে না, বিধির মাধ্যমে অনেক কিছুর সমাধান হতে পারত।
মো. আসাদুজ্জামান: আইনে যেভাবে বলা আছে, বিধি তো তার বাইরে যেতে পারবে না।
দ্য ডেইলি স্টার: আপনাদের দৃষ্টিতে থাকা এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে চলতি অধিবেশনে আইনটি পাস করতে পারতেন।
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা আরও যাচাই-বাছাই করব। এখানে গুমের বিষয়টিকে ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ইক্যুইপমেন্ট নেই। গুমের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিটি) একটি বিধান আছে। সেখানে পৃথক বিশেষায়িত তদন্ত বিভাগ আছে। আপনি হয়তো উদাহরণ দেবেন যে, সেখানে ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেম্যাটিক গুমের অপরাধ যাবে। কিন্তু অধ্যাদেশে সেটার কোনো পার্থক্য করা আছে কি না দেখেন।
দ্য ডেইলি স্টার: এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়, কোনো আইনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। এই আইনটির বড় বিতর্কটা রাজনৈতিক।
মো. আসাদুজ্জামান: না, এটা ঠিক না। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি যেটা আছে, আমরা সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই কয়েক দিনে প্রতিহিংসার রাজনীতি কতটুকু দেখেছেন? গুম হয়েছে? ক্রসফায়ার হয়েছে? বিএনপি বাদী হয়ে কিংবা পুলিশ বাদী হয়ে কয়টা মামলা করেছে?
দ্য ডেইলি স্টার: হেফাজতে মৃত্যু হচ্ছে। গত চার মাসে অন্তত ৪০ জনের বেশি হেফাজতে মারা গেছেন।
মো. আসাদুজ্জামান: সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।
দ্য ডেইলি স্টার: কী ধরনের তথ্য পেয়েছেন?
মো. আসাদুজ্জামান: বেশির ভাগই মেডিকেল ইস্যু। এখানে কোনো টর্চারের ঘটনা ঘটেনি।
দ্য ডেইলি স্টার: আওয়ামী লীগ আমলে আপনাদের দলের নেতাকর্মীদের অনেকের মৃত্যুতেও মেডিকেল ইস্যুর কথাই বলা হতো।
মো. আসাদুজ্জামান: সেগুলোর বিষয়ে কোনো বড় রিঅ্যাকশন (প্রতিক্রিয়া) হয়নি। কিন্তু ক্রসফায়ার, গুম–এগুলোর ওপর রিঅ্যাকশন হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার: তখন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় বড় রিঅ্যাকশন হয়নি বলে এখনো হবে না?
মো. আসাদুজ্জামান: হবে। (সরকার) দেখবে, এটা অবশ্যই দেখবে, দেখা উচিত।
দ্য ডেইলি স্টার: এখন পর্যন্ত সেই ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
মো. আসাদুজ্জামান: যারা মারা গেছেন, তারা জানেন যে তারা কী পরিমাণ অসুস্থ এবং অসুস্থতার কারণেই মারা গেছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: এমন অসুস্থদের আপনারা আটকে রাখছেন?
মো. আসাদুজ্জামান: এটা আমাদের আটকে রাখার বিষয় না। আপনারা একদিকে বলবেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা, এখানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে ডিল করছে। এখানে আমাদের আটকে রাখার বিষয় নেই।
দ্য ডেইলি স্টার: অধ্যাদেশের বিষয়গুলো আগে শেষ করি। পাস না হওয়া অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে লেজিসলেটিভ বিভাগের মন্তব্য একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তাতে আশাবাদী হওয়ার মতো কারণ আছে কি?
মো. আসাদুজ্জামান: অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে আমরা যখন অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শে যাব, তখন এসব মূল্যায়ন ধারেকাছেও থাকবে না।
দ্য ডেইলি স্টার: অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখেছি যে, সরকারি কর্মচারীদের বা বাহিনীর কাউকে গ্রেপ্তার করতে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে, প্রধান বিচারপতির হাতে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া যাবে না—এসব সুপারিশ আছে।
মো. আসাদুজ্জামান: এগুলো আমরা বিবেচনাতেই রাখব না।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে অধ্যাদেশে যা আছে, সেভাবেই থাকবে বলে আশা করা যায়?
মো. আসাদুজ্জামান: সেটা নাও হতে পারে। পরামর্শ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছুও আসতে পারে।
দ্য ডেইলি স্টার: এর চেয়েও ভালো কী হতে পারে?
মো. আসাদুজ্জামান: সেটা তো এখন বলতে পারব না। পরামর্শ নেওয়ার পরে বলা যাবে।
দ্য ডেইলি স্টার: পরামর্শ যা-ই আসুক, সবচেয়ে বড় অংশীজন তো সরকার নিজে।
মো. আসাদুজ্জামান: সরকার জননীতি নির্ধারণ করে। এসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের আগে কোনো মাইন্ড মেকআপ (মনস্থির) করলে প্রিকনসিভড ডিসিশন (পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত) হয়ে যায়। আমরা এটা করতে চাই না।
দ্য ডেইলি স্টার: আপনারা যেটা ধারণ করেন, সেই বিষয়ে অবস্থান নিতে সমস্যা কোথায়?
মো. আসাদুজ্জামান: অবশ্যই অবস্থান নেব। আগে পরামর্শ আসুক। আপনি যেভাবে বলছেন, সরকার আগে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার মতো হবে।
দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারও তো অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।
মো. আসাদুজ্জামান: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা করে গেছে, তা নির্বাচিত সরকার বা সংসদ মানতে হবে, এটা জুরিস্প্রুডেনশিয়াল (আইনশাস্ত্রীয়) কোনো থিওরি না।
দ্য ডেইলি স্টার: সেটাও বলছি না। মানুষ চায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনির্বাচিতদের চেয়ে ভালো আইন করুক। কিন্তু আপনার কণ্ঠে সেই সুর পাচ্ছি না।
মো. আসাদুজ্জামান: আপনি আমার কোন কথায় সুর পাননি, কোথায় ব্যত্যয় ঘটালাম? আপনি আপনার মতো করে প্রশ্ন করছেন যে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আগে জানাতে হবে। কিন্তু আমি বলেছি, সরকার আগে সিদ্ধান্ত নিলে তো বলবেন যে সরকার চাপিয়ে দিয়েছে। আপনি যদি আপনার মতো সুর মেলাতে চান, দ্যাট ইজ নট দ্য ওয়ে অব টকিং (সেভাবে কথা হতে পারে না)।
দ্য ডেইলি স্টার: দুঃখিত, আমি সেভাবে বোঝাতে চাইনি। আমি বলতে চেয়েছি, একটা ভিত্তি যেহেতু স্থাপন হয়েছে সেখান থেকে…
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা তাদের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এক শর বেশি অধ্যাদেশ গ্রহণ করেছি। সবগুলো গ্রহণ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
দ্য ডেইলি স্টার: সংখ্যার দিক থেকে নিঃসন্দেহে প্রশংসার বিষয়। ওজনের দিক থেকে ৪-৫টি অধ্যাদেশের দিকেই সবার নজর।
মো. আসাদুজ্জামান: ওই ৪-৫টি অধ্যাদেশের সঙ্গে জননীতি এমনভাবে জড়িত যে সংসদের বিশেষ কমিটি এবং সংসদ মনে করছে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
দ্য ডেইলি স্টার: অন্তত গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশটি পাসের বিষয়ে বিএনপির তরুণ সংসদ সদস্যরা অভ্যন্তরীণভাবে সোচ্চার ছিলেন। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এই ধারণা পেয়েছি।
মো. আসাদুজ্জামান: কারা চেয়েছে? তাদের নাম বলে দেন। যারা শুরুর দিকে আপত্তি করেছিলেন, পরে তারা সেটা প্রত্যাহার করেছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে কেউ কি নাম প্রকাশ করতে চাইবে?
মো. আসাদুজ্জামান: ৭০ অনুচ্ছেদ এখানে প্রয়োগই হয়নি। তারা (সংসদ সদস্যরা) আলোচনায় অংশ নিলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে বলেছেন যে আরেকটু যাচাই-বাছাই হোক।
দ্য ডেইলি স্টার: ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগযোগ্য নয়, সেই ঘোষণাও আপনারা দেননি।
মো. আসাদুজ্জামান: সেই ঘোষণা দেওয়ার বিষয় নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ কতটুকু সংশোধন হবে সেটা জুলাই সনদে বলা আছে।
দ্য ডেইলি স্টার: এই বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেখানে আপনারা অবস্থান পরিষ্কার করতে পেরেছেন কি?
মো. আসাদুজ্জামান: ভুল ধারণা পরিষ্কার করা গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব। যেমন- গণভোট, জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। এই তিনটি বিষয়ে যদি পাবলিক পারসেপশন (জনমত) ভুলভাবে ডিসপ্লে করার চেষ্টা করেন, দ্যাটস ইউর ওয়ে অব ওয়ার্কিং। আওয়ার ওয়ে অব ওয়ার্কিং হচ্ছে, জুলাই সনদে যেভাবে বলা আছে, উই ওয়ান্ট টু গো বাই দ্যাট (আমরা সেভাবেই এগোতে চাই)।
দ্য ডেইলি স্টার: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে বিতর্ক আছে, এটা নিয়ে দ্বিমত করি না।
মো. আসাদুজ্জামান: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ নিয়ে ফ্রড (প্রতারণা) করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে। কিন্তু জুলাই সনদের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা এই বিষয়টিতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ অনুচ্ছেদে পৃথক একটি নোট যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দল/জোটগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, সেটা উল্লেখ করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে গণভোটসংক্রান্ত প্রায় সব বিষয়ই বিএনপি মানছে, তারপরও আপনারা হাইলাইট করছেন, বিএনপি গণভোট অধ্যাদেশ মানছে না।
দ্য ডেইলি স্টার: গণভোট অধ্যাদেশের প্রসঙ্গ তো তুলিনি।
মো. আসাদুজ্জামান: গণভোট অধ্যাদেশের শিডিউলে যে ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ নেই। আমি নিশ্চিত, এগুলো আপনারা (সাংবাদিকরা) হাইলাইট করবেন না।
দ্য ডেইলি স্টার: এই বিষয়টাতে পরে আসতাম, আপনি আগেই প্রসঙ্গ টেনেছেন। গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিষয়টা শেষ করা হয়নি।
মো. আসাদুজ্জামান: একই অপরাধে (গুম) দুই অধ্যাদেশে দুইভাবে সংজ্ঞায়িত করায় একটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এভাবে আইনের সংজ্ঞা হয়?
দ্য ডেইলি স্টার: আইসিটি আইনে ওয়াইডস্প্রেড, সিস্টেম্যাটিক গুমের বিষয়গুলো…
মো. আসাদুজ্জামান: এখানে (অধ্যাদেশে) ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেম্যাটিক আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তখন আইসিটিতে বিচার করতে যাওয়া কেউ যদি বলে আমার বিচার ওই আইনে (গুম) করা যায়, আমাকে কেন এখানে বিচার করা হবে? এই আইনে সব ধরনের গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড। এখানে ‘বা’ হচ্ছে ডিসজাংকটিভ ওয়ার্ড (পৃথককারী শব্দ)। এতে অনধিক ১০ বছর মানে ১ ঘণ্টার দণ্ডও হতে পারে। এসব অস্পষ্টতার জায়গাগুলোতে স্পষ্টতা আনতে আমরা কাজ করছি। এরপরও যারা গেল গেল বলছেন, আমি মনে করছি তারা আল্টেরিয়র মোটিভ (গোপন উদ্দেশ্য) নিয়ে কথা বলছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: আইনটি পাস করার পরও এই সংশোধনগুলো করা যেত না?
মো. আসাদুজ্জামান: পাস হয়ে গেলে এটা নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হবে। আমরা সেই জটিলতার জায়গাটা রাখতে চাই না।
দ্য ডেইলি স্টার: কিন্তু আইসিটি তো সারা জীবন চলতে থাকার মতো আদালত না।
মো. আসাদুজ্জামান: কেন? এই সরকারও যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়ায়, কেন বিচার হবে না? আইসিটি ল ইজ পারপিচুয়াল, আনলেস ইট রিপিলড (আইসিটি আইন চিরস্থায়ী, যদি না এটি বাতিল করা হয়)।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে আইসিটি আদালত সাধারণ আদালতের মতো সারা জীবন চলতে থাকবে?
মো. আসাদুজ্জামান: এটা একটা ট্রাইব্যুনাল। যদি প্রয়োজনীয়তা থাকে চলবে। প্রয়োজনীয়তা না থাকলে চলবে না।
দ্য ডেইলি স্টার: কিন্তু গুমের বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করার জন্য…
মো. আসাদুজ্জামান: গুম কি সারা জীবন চলতে থাকবে?
দ্য ডেইলি স্টার: মানুষের মধ্যে আশঙ্কা থাকতে পারে।
মো. আসাদুজ্জামান: একই কথা আইসিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
দ্য ডেইলি স্টার: আইসিটি আইন থাকবে। সরকার চাইলে যেকোনো সময় আইসিটি আদালত জীবিত করতে পারে।
মো. আসাদুজ্জামান: তেমনি এই আইনও (গুম অধ্যাদেশ) যেকোনো সময় নিয়ে আসতে পারি।
দ্য ডেইলি স্টার: এগুলো টেকনিক্যাল কথা। এভাবে তর্কের শেষ নেই। কথা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি এই বিষয়গুলো জনসাধারণের মানসপটে যেভাবে আন্দোলিত হচ্ছে, সেই জায়গায় আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পেরেছেন কি? রাজনৈতিক দিকটার কথা বলছি।
মো. আসাদুজ্জামান: আমি মনে করি, সংসদ ও সংসদের বাইরে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমাদের একজন সংসদ সদস্য আছেন, যার স্বামী গুমের শিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে গুমের শিকার। তাদের বেদনা কি কম? তা ছাড়া এই বিষয়টাও আইন মন্ত্রণালয়ের না, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই মনে করেছে যে এই বিষয়টা আরও বেশি অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
দ্য ডেইলি স্টার: তাহলে আগামী অধিবেশনে গুমসংক্রান্ত আইন হতে যাচ্ছে?
মো. আসাদুজ্জামান: ১৫ মের পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর গুমসংক্রান্ত আইন নিয়েও আলোচনা হবে। এভাবে একটার পর একটা নিয়ে কাজ হবে।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে আগামী অধিবেশনে এটা উঠতে যাচ্ছে বলা যায়?
মো. আসাদুজ্জামান: চেষ্টা করব।
দ্য ডেইলি স্টার: সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ পাস করতে সমস্যা কোথায় ছিল?
মো. আসাদুজ্জামান: সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করেন। এখানে মাঝামাঝি কোনো জায়গা নেই। আবার ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্থায়ী বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শের বিধান নেই। সরাসরি রাষ্ট্রপতি অর্থাৎ সরকার নিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু অধ্যাদেশে বিচারক নিয়োগের কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে, যেটা সংবিধানে নেই। এই কাউন্সিলের পদ্ধতিটি অসাধারণ হয়েছে। এই বিষয়টিকে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অধ্যাদেশটির অধীনে হওয়া কার্যক্রমকে হেফাজত করেছি।
দ্য ডেইলি স্টার: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে সরকারের অবস্থান কী?
মো. আসাদুজ্জামান: প্রথমত, অধ্যাদেশটি মাসদার হোসেন মামলার গাইডলাইন অনুযায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ত, ১১৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন। এটা আপিল বিভাগের সামনে যাবে। এরপর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ও আছে। এই সচিবালয় আমরা করব না, তা একবারও বলিনি।
দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা আমাকে বলেছিলেন, নিম্ন আদালতের কিছু বিচারক পৃথক সচিবালয় চান না। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
মো. আসাদুজ্জামান: হ্যাঁ। আমার কাছেও এমন তদবির এসেছে।
দ্য ডেইলি স্টার: কী ধরনের তদবির?
মো. আসাদুজ্জামান: তারা মনে করেন, এই সচিবালয় হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার চেয়ে বেশি পরাধীন হবে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত জজরা যে পরিমাণ তদবির শুরু করেন, সেই তদবির না শুনলে তারা যখন ভিকটিমাইজ হবেন, সেটার ভেন্টিলেশনের জায়গা তাদের থাকবে না। কারণ, প্রধান বিচারপতি বিচারিক কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে তারা (নিম্ন আদালতের বিচারকরা) অবিচারের শিকার হলে প্রতিকার পাবেন না। এই কারণে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে পূর্ণ স্বাধীনতার বিষয়টা…
মো. আসাদুজ্জামান: আপনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝেন বা বোঝাতে চান?
দ্য ডেইলি স্টার: আমি অধ্যাদেশে থাকা বিষয়টাকে বলছি।
মো. আসাদুজ্জামান: না অধ্যাদেশ নয়, আপনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন?
দ্য ডেইলি স্টার: রাষ্ট্র যেহেতু তিনটা অঙ্গ…
মো. আসাদুজ্জামান: না, আপনি সম্পূর্ণ ভুল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ অন্য অঙ্গ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তা বোঝায় না। বরং স্বাধীন বিচার বিভাগ বলতে বোঝায়, বিচার বিভাগ তার বিচারিক সক্রিয়তা ও বিচারিক কর্মকাণ্ডে স্বাধীনভাবে কাজ করবে। অর্থাৎ, একজন বিচারক তার বিচারকার্যে কোনোভাবেই যাতে প্রভাবিত না হন। এ জন্য নিয়োগ, প্রমোশন-পোস্টিং, ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন স্বচ্ছ এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দরকার। সেই সঙ্গে বিচারকদের উপলব্ধিতে থাকতে হবে যে রায় লেখার জন্য তাকে সরকার চাইলেই ট্রান্সফার করতে পারবে না, প্রমোশন আটকাতে পারবে না, ডিসমিস করতে পারবে না বা শাস্তির মুখোমুখি করতে পারবে না। তখন একজন বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। আপনারা জানেন যে ১৯৭৫ সালের পর একজন সহকারী জজকে এককভাবে ট্রান্সফার করার ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই।
দ্য ডেইলি স্টার: কনসালটেশন হয়।
মো. আসাদুজ্জামান: কনসালটেশন নয়, আমরা (সরকার) সুপারিশ পাঠাই, সিদ্ধান্ত দেন সুপ্রিম কোর্ট।
দ্য ডেইলি স্টার: তারা কাজটা নিজেরা করতে চান। এতে সমস্যা কোথায়?
মো. আসাদুজ্জামান: সেটা দিতে সরকার যাচাই-বাছাই করবে।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে হস্তক্ষেপ থাকছেই?
মো. আসাদুজ্জামান: এখানে হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীন, সেখানে চাকরি খাওয়ার ব্যাপার নাই। সেখান থেকে কী ন্যায়বিচার পাওয়া গিয়েছিল?
দ্য ডেইলি স্টার: উদাহরণটা যৌক্তিক, কিন্তু আমরা কি সেই পুরোনো বৃত্তেই থাকছি?
মো. আসাদুজ্জামান: সে কারণেই বলছি, আরও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচারিক ফাংশনগুলোকে কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।
দ্য ডেইলি স্টার: বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতায় আপত্তি কেন? প্রধান বিচারপতির হাতে ৫০ কোটি টাকার বাজেটের স্বাধীনতা থাকা কি বেশি কিছু?
মো. আসাদুজ্জামান: এটা খুবই সামান্য টাকা। আমরা চাই প্রধান বিচারপতির হাতে ৫০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক স্বাধীনতা থাকুক, বাজেট আরও বেশি হোক।
দ্য ডেইলি স্টার: তার মানে সংশোধিত আইনে প্রধান বিচারপতির হাতে ৫০ কোটি টাকারও বেশি বাজেটের সুযোগ থাকছে?
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা প্রস্তাব করব। তবে এটা একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অনেকে আছে।
দ্য ডেইলি স্টার: অধ্যাদেশটির যখন খসড়া হয়, তখন অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ কোটি টাকার বিষয়টিতেই দ্বিমত করেছিল বলে শোনা গেছে।
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা চাইব বাজেট বরাদ্দ বাড়ুক। আলোচনা হবে।
দ্য ডেইলি স্টার: সেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়বে।
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা এই বিষয়টা পজিটিভলি আলোচনা করব।
দ্য ডেইলি স্টার: ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধনে সংশ্লিষ্টরা অবাক হয়েছেন। কেন এটা করলেন?
মো. আসাদুজ্জামান: এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ভালো জানতে পারবেন। তবে আমি আইনটা পড়ে যতটা বুঝলাম তা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে লুটের টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনার তেমন রেকর্ড নেই। এখন কেউ যদি টাকা দিয়ে ফিরতে চায়, সুদসহ টাকা আদায় করা যায়—এটা একটা বিষয়। কিন্তু এর কারণে তিনি অন্যান্য দুর্নীতি থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন, সেটা তো আইনে বলা হয়নি। অর্থাৎ বছরের পর বছর বিদেশের ট্রাইব্যুনালে ঘুরে, খরচ করেও অ্যাসেট রিকভারির নিশ্চয়তা নেই। সেই জায়গায় কেউ যদি বাংলাদেশে টাকা এনে দিতে চায়, সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। আপনারা (গণমাধ্যম) শুধু চিলে কান নিয়ে যাওয়ার কথা না ভেবে অবজেকটিভলি দেখতে পারেন।
দ্য ডেইলি স্টার: এ ধরনের কোনো আশ্বাস বা আবেদন সরকার পেয়েছে?
মো. আসাদুজ্জামান: আমার জানা নেই।
দ্য ডেইলি স্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর যারা বিনা বিচারে আটক আছেন, তারা কি এভাবেই আটক থাকবেন?
মো. আসাদুজ্জামান: এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ফৌজদারি কার্যবিধির ‘১৭৩ এ’ ধারার সুযোগ নিতে পারেন। ভুক্তভোগীরা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার বা জেলা পর্যায়ে এসপিকে হয়রানির কথা অবহিত করলে তারা তদন্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে হয়রানি থেকে রেহাই দিতে পারেন। আমার জানামতে অনেকেই প্রতিকার পাচ্ছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: সরকারপক্ষ আদালতে আপত্তি জানালে কি জামিন সহজে হয়?
মো. আসাদুজ্জামান: আমরা আমাদের স্বাভাবিক কাজ করব, জামিনের বিষয়টা আদালত দেখবে। তবে অনেক সময় রাষ্ট্রপক্ষও ইতিবাচক মনোভাব দেখায়।
দ্য ডেইলি স্টার: যেমন?
মো. আসাদুজ্জামান: আইসিটি ট্রাইব্যুনালের অবমাননাসংক্রান্ত একটা ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিস্টকে তলব করলে সে নিঃশর্ত ক্ষমা চায়। আমাদের এখানে দীর্ঘদিনের রীতি হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনায় কেউ নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন মাসের জেল দেন। তখন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর দাঁড়িয়ে অভিযুক্তের সাজা এক মাস কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যা খুবই ইতিবাচক ঘটনা। কিন্তু কোনো কোনো মিডিয়ায় এটাকে নেতিবাচকভাবে প্রতিবেদন করা হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হওয়া অনেক মামলার সমালোচনা আছে। এ বিষয় সরকার খতিয়ে দেখলে সমস্যা কোথায়?
মো. আসাদুজ্জামান: ভুক্তভোগীদের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হবে। মিথ্যা-হয়রানিমূলক মামলা একটা কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। স্থানীয়ভাবে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বেও একটা কমিটি কাজ করছে।
দ্য ডেইলি স্টার: সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর হঠাৎ গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের সম্মতি ছাড়া কি এটা সম্ভব?
মো. আসাদুজ্জামান: এখানে সরকারের সম্মতির বিষয় নেই। এফআইআরে নাম থাকলেই গ্রেপ্তার করতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই, এটা সম্পূর্ণরূপে তদন্তকারী অফিসারের বিবেচনার বিষয়। যারা গ্রেপ্তার করেছেন এবং জামিন দিয়েছেন, এটা তাদের বিষয়।
দ্য ডেইলি স্টার: সরকারের সম্মতি ছাড়া সাবেক স্পিকারের মতো নেতার জামিন হয়েছে, মানুষ এটা বিশ্বাস করবে? অনেক সাংবাদিকও এ ধরনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মো. আসাদুজ্জামান: তদন্ত কর্মকর্তা তার (সাবেক স্পিকারের) বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত কারণ পাননি বলে হয়তো শ্যোন অ্যারেস্ট করেননি।
দ্য ডেইলি স্টার: এ ধরনের অন্য মামলাগুলোর বিষয়েও কি সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে না?
মো. আসাদুজ্জামান: সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
দ্য ডেইলি স্টার: আপনি আইনমন্ত্রী।
মো. আসাদুজ্জামান: তদন্ত কর্মকর্তারা আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন নন।
দ্য ডেইলি স্টার: সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যদি বলেন…
মো. আসাদুজ্জামান: সরকারের প্রতিনিধি নয়, আপনি আইনমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
দ্য ডেইলি স্টার: গত সরকার রিকনসিলিয়েশন (সমঝোতা) কমিশন করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করেনি। আপনারা ভাবছেন কি?
মো. আসাদুজ্জামান: ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন অনেক বড় পলিসি ডিসিশনের (নীতিগত সিদ্ধান্ত) বিষয়। যদি কখনো আমার সামনে এ আলোচনা আসে, আমি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। আমি মনে করি এটা ভালো একটা অপশন।
দ্য ডেইলি স্টার: সরকারে এখনো এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি?
মো. আসাদুজ্জামান: এখনো হয়নি।

