২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সম্প্রচারের সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামাল দিতে ওটিটি বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল কি না?
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শুরু হয় ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়। এ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো।
উদ্বোধনী ম্যাচ চলার সময় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পেতে দেরি, পেমেন্ট জটিলতা, বাফারিং এবং লাইভ সম্প্রচারে বারবার বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বড় অংশই ছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারের স্বত্বধারী, বাংলালিংক পরিচালিত প্ল্যাটফর্ম টফিকে ঘিরে।
অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, সাবস্ক্রিপশন চালু করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ ম্যাচ চলার সময় বারবার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
আনামুল হক নামে একজন ব্যবহাকারী টফির একটি ফেসবুক পোস্টের নিচে লিখেছেন, ‘মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ২০ মিনিটও দেখতে পারিনি। আমার ৯৯ টাকা ফেরত দিলে খুশি হব।’
আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, এ বছর বিশ্বকাপের জন্য কেনা সাবস্ক্রিপশন হয়তো পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় কাজে আসতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান গাজী তৌহিদ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অস্বাভাবিক হারে ওটিপি অনুরোধ বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছিল।’
ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি কারণ ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ‘সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটার পর অনেক গ্রাহক বারবার লগইন ও সেশন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ওটিপি অনুরোধ তৈরি হয়েছিল, যে কারণে বিলম্ব হয়েছে।’
বাফারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফিড স্বত্বধারী ও প্রযুক্তিগত অংশীদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যাতে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় এবং প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যায়।’
বর্তমানে সেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু বাংলালিংকের টফি নয়, গ্রামীণফোন পরিচালিত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপ প্লাসের ব্যবহারকারীরাও প্রায় একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তারা অ্যাপে লগইন করতে পারেননি এবং শুধু লোডিং চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন।
অফি নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘আমি টিভিতে বায়োস্কোপ প্লাস অ্যাপের ওপেনিং অ্যানিমেশন উপভোগ করেছি। যেহেতু টাকা দিয়েছি, এটাকে অন্তত সুন্দর একটি প্রি-লোডার বলা যায়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কিছু গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। আমাদের টিম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করেছে।’
এ সময় তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতি চার বছর পর পর হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট দেখতে গিয়ে বার বার ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকদের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বিপুল সংখ্যক দর্শক সামাল দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছে কি না।

