উইকেট পাচ্ছিল না অস্ট্রেলিয়া, তানজিদকে কী বলেছিল তারা?

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ যতই ধারালো হোক, ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে তানজিদ হাসান তামিমকে থামাতে পারেনি তারা। নতুন বলে সতর্ক ব্যাটিং, এরপর ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষের চাপ সামলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। ফলে কথার লড়াইয়ে তানজিদকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ানরা। সেই স্লেজিংয়ের কথা এবার নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ১০১ রানের ইনিংস নিয়ে কথা বলার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্লেজিংয়ের প্রসঙ্গ ওঠে। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার সময় অজি ক্রিকেটাররা তাকে কোনোভাবে বিরক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, জানতে চাওয়া হয় তানজিদের কাছে।

জবাবে তানজিদ জানান, অস্ট্রেলিয়ার এমন আচরণের জন্য তিনি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। উইকেট না পেলে অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়ের পাশাপাশি মুখের কথাতেও কঠিন সময় তৈরি করবে, এটা তার জানা ছিল।

তানজিদ বলেন, ‘আসলে আমি এটার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমি জানি ওরা যখন উইকেট পাবে না তখন ওরা অনেক কঠিন সময় দিবে, সেটা বোলিং করে হোক বা মুখে কথা বলে হোক। ওরা কিছুটা করেছে, তবে খুব বেশি না। যেহেতু আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম, তাই আমি বিষয়টাকে অতটা গুরুত্ব দেইনি।’

অস্ট্রেলিয়ানরা স্লেজিং করলেও সেটি তার ব্যাটিং পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই জানান তানজিদ। বরং নিজের কাজেই মনোযোগ রেখে একের পর এক বল মোকাবিলা করেছেন তিনি। আর সেই ধৈর্যের ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১৮৮ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। এর মধ্য দিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইতিহাসও গড়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

তানজিদের ইনিংসটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের কারণে। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের পেসার মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বিপক্ষে শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি নেননি তিনি। নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে কঠিন মনে হলেও শট কমিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করার পরিকল্পনাতেই এগিয়েছেন।

নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তানজিদ বলেন, ‘আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে ওদের বিপক্ষে নতুন বলে খেলাটা একটু কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে শট কমিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়। চেষ্টা করেছি উইকেটে থেকে বাজে শট না খেলে কীভাবে একটা পার্টনারশিপ করা যায়।’

সেই পরিকল্পনায় দারুণ সফল হয়েছেন তানজিদ। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটির পর মুমিনুল হকের সঙ্গে ১০২ এবং নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দিয়েছেন তিনি। শান্তও পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রান।

তানজিদের মতে, বড় জুটি গড়াই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের অন্যতম কারণ। তার ভাষায়, ‘আমার সাথে শান্ত ভাইয়ের পার্টনারশিপ, মুমিনুল ভাইয়ের পার্টনারশিপ এবং মুশফিক ভাই ও শান্ত ভাইয়ের পার্টনারশিপ অনেক ভালো ছিল, যা আসলে বড় রান করতে অনেক সাহায্য করেছে।’

তবে তানজিদের সেঞ্চুরির পথ পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। একপর্যায়ে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। যদিও স্মিথের ক্যাচ ড্রপকে আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন তানজিদ। তার কাছে সেটি ক্রিকেটেরই অংশ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির পর তানজিদ পেয়েছেন গ্যালারির দর্শকদের কাছ থেকেও স্ট্যান্ডিং ওভেশন। সেটিকেই টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সৌন্দর্য হিসেবে দেখছেন তিনি। পাশাপাশি ছোটবেলার পছন্দের ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কাছ থেকে নিজের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা পাওয়াও তাকে দিয়েছে বাড়তি আনন্দ।
 

Related Articles

Latest Posts