ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পেছনে একটা রাজনীতি কাজ করছে: অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের একটি যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ‘যারা টাকা তুলে নিচ্ছেন, তারা নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে তা করছেন না; বরং মনে হচ্ছে তারা ইসলামী ব্যাংককে বিপদের মুখে ফেলতে চাইছেন। এর পেছনে কারও হাত, কোনো শক্তির হাত আছে। আসলে তারা ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করতে চাচ্ছে।’

এর আগে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ৬৮ বিধির আওতায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ আকারে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

সেখানে তিনি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক, অবৈধ ও অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। 

ওই নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের একাংশের বিক্ষোভের ফলে আমানত উত্তোলনের হার হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে দেশের বৃহত্তম শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকটি বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিরুদ্ধে গত ১ জুন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর সাত দিনের মধ্যে ব্যাংকটি ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকার আমানত হারায়। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি শাখার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের তদন্তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও শুধু চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন না।’

‘গ্রাহকরা দেখেন তারা সঠিকভাবে সুদ পাচ্ছেন কি না, তাদের টাকা ফেরত পাবেন কি না এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের আস্থা আছে কি না। চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে নিচ্ছেন—এমন নজির বিশ্বের কোথাও নেই,’ বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যাংকটিকে ঘিরে যে সুবিধাবাদী রাজনীতিতে অর্থায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে এটা শুধু ব্যাংকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজনীতির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই ইকোসিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বৈরাচারের লোকজন যখন ব্যাংকটি দখল করেছিল, তখন কি গ্রাহকরা অর্থ উত্তোলন করেছিল? করেনি। কারণ ব্যাংকের গ্রাহকের সঙ্গে চেয়ারম্যান নিয়োগ সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়।’ 

‘এটি ‍শুধু ইসলামী ব্যাংকেই সীমিত নয়। রামিসা হত্যাসহ প্রতিটি পরিস্থিতিতেই এক ধরনের মবোক্রেসি সৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছু ঘটলেই মবোক্রেসি বা উচ্ছৃঙ্খলা শুরু হয়। এটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির একটি প্রক্রিয়ার অংশ,’ বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকে এমন একজন গভর্নর এসেছেন, যিনি সঠিক কাঠামোর মধ্যে থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তবে কিছু মানুষ তাকে “ঋণগ্রস্ত” আখ্যা দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। যা সঠিক কাজটা গ্রহণ করতে না চাওয়ার মানসিকতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ‘যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের সঙ্গে আজকের এই প্রস্তাব উত্থাপনকারীদের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে হয়।’

বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আপস করবে না বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

Related Articles

Latest Posts