ইরানকে বুধবার পর্যন্ত সময় দিলেন ট্রাম্প

ইরানে সংঘাত নিরসনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বরাবরই দোটানায় থাকতে দেখা যায়। ইরানকে বারবার ‘শর্ত মেনে নেওয়ার’ আল্টিমেটাম দিয়ে আবার তা বাড়িয়ে দেওয়া এখন যেন তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। রোববারও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন এই বিশ্বনেতা। 

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের আল্টিমেটাম আজ সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।  

এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ—অর্থাৎ ঊর্ধ্বে ৪২ দিন চলবে, এমন ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। আজ যুদ্ধের ৩৭তম দিন। খুব শিগগির ওই সময়সীমাও শেষ হতে যাচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে হেলাফেলা করেই যেন তেহরানকে বাড়তি একটি দিন সময় বাড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প!

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়। 

রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা (ইরান) দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার ও তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ভাবছি।’

কিন্তু এরপর বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১১টার দিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি অস্পষ্ট বার্তা দেন ট্রাম্প। 

পোস্টে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম!’

 

বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের জন্য নতুন আল্টিমেটাম। এই বার্তা অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) পর্যন্ত ইরান ‘চুক্তিতে আসার’ সময় পাচ্ছে। 

এর আগে ট্রুথ সোশালের অপর এক বার্তায় ট্রাম্প হুমকি দেন, ‘ইরানে মঙ্গলবার হবে “বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস” ও “সেতু দিবস”—সবগুলোই একসঙ্গে ঘটবে। এর মতো ভয়াবহ কিছু আগে কখনো ঘটেনি।’

অশালীন শব্দ ব্যবহার করে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেন। ইরানকে উদ্দেশ্য করে গালি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘…তোমাদের জায়গা হবে নরকে। শুধু অপেক্ষা করো!’

অর্থাৎ, আগের বার্তার সময়সীমা মঙ্গলবার থেকে আল্টিমেটাম একদিন বাড়িয়েছেন ট্রাম্প।  

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান। যার ফলে, বৈশ্বিক তেল-গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথে কোনো নৌযান চলছে না।  

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন আল্টিমেটামের বিষয়টি পরোক্ষভাবে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। 

রোববার জার্নালকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। সব কিছু পুনর্নির্মাণ করতে ওই দেশটির ২০ বছর সময় লাগবে। যদি দেশটি আদৌ টিকে থাকে এবং তারা সৌভাগ্যবান হয়, তাহলেই তা পারবে।’

‘আর তারা যদি মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু না করে, তাহলে তাদের আর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বা সেতু থাকবে না’, যোগ করেন তিনি। 

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের ঘোষণা দেওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। 

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ আছে। 
‘যদি তারা এখনই দরকষাকষি শুরু করে, তাহলে আগামীকালকের মধ্যে চুক্তিতে আসার ভালো সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

 

তিনি বলেন, ‘যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে না আসে, তাহলে আমি সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে দেশটির তেল খাতের দখল নেওয়ার কথা বিবেচনা করছি।’

একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের যেসব কর্মকর্তা আলোচনায় অংশ নেবেন, তাদেরকে ‘মৃত্যু থেকে রেহাই’ দেওয়া হচ্ছে। 

ট্রাম্প জানান, ইরানের ওই কর্মকর্তারা তাকে নিশ্চিত করেছেন, তেহরান আর পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগে অগ্রসর হবে না। 

‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তাদের কাছে কোনো পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। তারা এখন আর ওই বিষয়টি নিয়ে দাবিও জানাচ্ছে না। বিষয়টা এমনই সহজ এখন’, যোগ করেন তিনি। 

ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। বেশিরভাগ বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে।’

এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সপ্তাহ নয়, আর কয়েকদিনের মধ্যে’ সংঘাতের অবসান হবে। 

তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে না আসলে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। খুব বেশি কিছুকে তিনি ‘সীমার বাইরে’ রাখবেন না।

Related Articles

Latest Posts