বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব তুলে তীব্র বিরোধিতায় পিছু হটা ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আছেন প্রবল চাপে। তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা-উয়েফা। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকান সংস্থা কনকাকাফ, এশিয়ান ফুটবল সংস্থা-এএফসি। ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়েলস ও ইংল্যান্ড। এই কোণঠাসা পরিস্থিতিতে ফিফা প্রধানের পাশে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো।
বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা নেয় উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার একটি ‘আমূল হিসাব-নিকাশ’ হওয়া প্রয়োজন। ইউরোপীয় ফুটবলের সংস্থা উয়েফাও ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিতে অনড়, যার সঙ্গ দিচ্ছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। আর ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ফিফপ্রো’ তো এক হাত নিয়ে বসেই বলেছে, এটি স্রেফ প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং প্রেসিডেন্টের ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’।
তবে সব সংস্থা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) আগেই তার পেছনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এবার সেই পালে নতুন হাওয়া দিল দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল এবং সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের অন্যতম যৌথ আয়োজক মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ)।
নিজ অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফের অবস্থানের তোয়াক্কা না করে মেক্সিকো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার সব ২১১টি সদস্য দেশের সিদ্ধান্ত ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর কোনো প্রক্রিয়াই তারা মানবে না। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপকে প্রশ্রয় না দিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বেই ফুটবলের পথচলায় আস্থা রাখছে তারা।
ইনফান্তিনোর ওপর ভরসা রাখছে ২০২২ বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনাও (এএফএ)। ফিফা প্রধানকে পাঠানো এক চিঠিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের বিকাশ ও স্বচ্ছতার প্রসারে ফিফার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগটি যে আলোচনার চেয়ে শঙ্কা বেশি ছড়িয়েছে এবং এতে যে ভুল ছিল—তা মেনে নিয়েও এএফএ জানিয়েছে, ফুটবলের স্বার্থে ইনফান্তিনোর সঙ্গে থেকেই এসব ভুল শুধরে এগোতে চায় তারা।
মরক্কোর রবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ফিফা নিজের ভুল স্বীকার করে সদস্য দেশগুলোর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। আগামী মার্চে মরক্কো কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়াটা দুই মাস আগেও ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার, অথচ এখন তা বেশ ঝুঁকিতে। ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার মতো দেশগুলো সমর্থন তুলে নেওয়ায় তার আসন এখন বেশ নড়বড়ে। অবশ্য ইনফান্তিনোর বিপক্ষে লড়াই করার মতো শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখনো দৃশ্যপটে আসেনি।
ফিফার দাবি, স্বত্ব বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি; যা হয়েছে তা কেবল অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনার ভুল। তবে উত্তাপ তাতে কমছে না। এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর মতো হেভিওয়েটদের এই ঢাল ইনফান্তিনোকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে!

