ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি দফায় দফায় বিস্ফোরণ হয়। রাশিয়ার একের পর এক আকাশপথে হামলার মধ্যেই বুচা জেলায় এ ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় গুদামে থাকা গোলাবারুদে আঘাত লাগার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেঙ্কো বলেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলায় আরও ৪২ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, চার বছরেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকাশ করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে কয়েকটি খালি দেয়াল ও পুড়ে যাওয়া মাটি ছাড়া প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, হামলায় একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণ ঘটে, যা সেখানে থাকারই কথা ছিল না। হামলার ফলে ওই স্থাপনায় রাখা গোলা, মাইন, অন্যান্য গোলাবারুদ ও ড্রোনও বিস্ফোরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিস্ফোরক সামগ্রী বসতবাড়ির এত কাছে রাখার অনুমতি দেওয়ার জন্য দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হবে, তদন্ত চলছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, স্থাপনাটিতে বিস্ফোরণের কারণ ও এর জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে কিয়েভের কাছে ভিশনেভে একটি আবাসিক এলাকায় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা একটি গুদামে রুশ হামলায় সাতজন নিহত হন। শনিবারের ঘটনাস্থল থেকে ওই স্থানটির দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)।
জেলেনস্কি বলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের একটি পরিচর্যা কেন্দ্রও রয়েছে। ঘটনাস্থলে ৩০০ জনের বেশি জরুরি সেবাকর্মী কাজ করছেন।

