ইউএসএইড বন্ধের এক বছর পরও বৈদেশিক সহায়তার পক্ষে অধিকাংশ মার্কিনি: জরিপ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) বিলুপ্ত করার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এরপরও দুর্যোগ মোকাবিলা, রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বৈদেশিক সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছেন অধিকাংশ মার্কিনি।

রকফেলার ফাউন্ডেশনের কমিশনে পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

দুই হাজার ২২ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) সমর্থকেরা বিদেশি সহায়তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংশয়ী ছিলেন।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব মার্কিনিই মনে করেছেন, বিদেশি সহায়তায় ওয়াশিংটনের ব্যয় বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি।

এক-তৃতীয়াংশের বেশি অংশগ্রহণকারীর ধারণা, এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বাজেটের ২০ শতাংশ ব্যয় হয়।

তবে জরিপে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগে বিদেশি সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ ব্যয় হতো। একইসঙ্গে এসব কর্মসূচির অর্জন সম্পর্কে তথ্য জানার পর বিদেশি সহায়তার প্রতি সমর্থন ৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছায়।

রকফেলার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের মধ্যে বিদেশি সহায়তার প্রতি সমর্থনের হার ৫৮ শতাংশ। এমনকি যারা দলের চেয়ে ট্রাম্পকে বেশি সমর্থন করেন, সেই মাগা রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৫০ শতাংশ বিদেশি সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বিদেশি সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে ইউএসএইড বন্ধের নির্দেশ দেন।

এর ফলে সংস্থাটির ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার চাকরি হারান। বাতিল করা হয় হাজার হাজার কর্মসূচি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বৈশ্বিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিশ্বের দরিদ্রতম কোটি কোটি মানুষ এসব সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তা ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা আগের বছর ছিল ৭২ বিলিয়ন ডলার।

গত বছর চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এই ব্যয় সংকোচনের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

১২ থেকে ১৬ জুন ইশেলন ইনসাইটস পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৭৮ শতাংশ বিদেশি সহায়তার বর্তমান ব্যয় বজায় রাখা বা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

রকফেলার ফাউন্ডেশনের প্রকল্পপ্রধান এবং পেন্টাগনের সাবেক ভাষণলেখক জন গ্যানস বলেন, ‘যারা দাবি করেন যে মার্কিনিরা বিশ্বের প্রতি তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, এই তথ্য তাদের দাবির সরাসরি জবাব।’

তিনি বলেন, ‘ইউএসএইড বন্ধ হওয়ার এক বছর পরও অধিকাংশ মার্কিনি শুধু ক্ষুধার্তদের খাদ্য, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং বৈশ্বিক সংকটে সাড়া দিতে ফেডারেল অর্থায়ন বজায় রাখতে চান না, বরং তা বাড়ানোরও যথেষ্ট কারণ দেখছেন।’

জরিপে আরও দেখা গেছে, শুরুতে সবচেয়ে বেশি সংশয়ী থাকা মাগা সমর্থকদের অবস্থানেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত তথ্য পাওয়ার পর বিদেশি সহায়তার প্রতি তাদের সমর্থন ২৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের এই মতামত জানার পর যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমে যাওয়াই ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত বিস্তারের অন্যতম কারণ, সেখানে ইবোলা মোকাবিলায় সহায়তা পুনর্বহালের পক্ষে ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান মত দেন। বিপক্ষে ছিলেন ২৪ শতাংশ।

মাগা সমর্থকদের মধ্যেও ৫২ শতাংশ এই পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন, বিপক্ষে ছিলেন ৩৪ শতাংশ।

রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ইবোলার বিস্তার মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ জন্য কংগ্রেসের কাছে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি নতুন অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, রোগ প্রতিরোধ ও শান্তিরক্ষা মিশনের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য জানানো হলে বিদেশি সহায়তার প্রতি সমর্থন আরও বেড়ে যায়। অংশগ্রহণকারীদের ৮০ শতাংশ সহায়তা পুরোপুরি বাতিলের পরিবর্তে সংস্কার ও আরও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন।

অন্যদিকে, মাত্র ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, এর প্রভাব যাই হোক না কেন, সব ধরনের বিদেশি সহায়তা কমিয়ে আনা উচিত।

Related Articles

Latest Posts