আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৫ দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধান করবে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ রোববার দুদক প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাওয়া আবেদনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, সারা দেশে ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে আবেদনে।

এছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়, তার দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরে একটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আবেদনে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিএ মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বিএনপির সময় হওয়া একটি দুর্নীতির অভিযোগ আমার সঙ্গে যুক্ত করে আমার বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে। আজ একটি অভিযোগ দিচ্ছে, কাল আরেকটি দেবে। দিতে থাকুক, আমরা এর জন্য প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা দেখেছি দুদক সংস্কারে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তখনই আমরা বুঝেছি দুদক কেন এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে।’

নোট: আসিফ মাহমুদের বক্তব্য যুক্ত করে প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts