ভারতীয় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে। সুর দিয়ে জয় করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। অনেক কালজয়ী গান আছে তার। ৯২ বছর বয়সে আজ দুপুর বারোটায় মারা গেছেন তিনি।
নন্দিত এই শিল্পী বাংলাদেশেও এসেছিলেন।
আশা ভোসলের সঙ্গে দুইবার দেখা হয়েছিল এদেশের গুণী সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম-এর। সেই স্মৃতির গল্প তিনি বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
রফিকুল আলম বলেন, ‘আশা ভোসলে কতটা গুণী শিল্পী তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে নিয়ে বলাটা দু:সাহস মনে করছি। তারপরও কিছু কথা বলছি। তার মতো বিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে আমার দুইবার দেখা হয়েছিল। একবার ঢাকায়, আরেকবার কলকাতায়।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আশা ভোসলে গান করেছিলেন শেরাটন হোটেলে। কলকাতায় পেয়েছিলাম একটি স্টেজে।’
রফিকুল আলম বলেন, ‘ঢাকায় উনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলবার সুযোগ পেয়েছিলাম। কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আশাজি, আপনার গাওয়া “জীবনও গান”— এই গানটি বাংলা ভাষার অসম্ভব সুন্দর একটি গান। আপনি ছাড়া কেউ পারবেন না এই গান করতে। শুনে খুশি হয়েছিলেন। হেসেছিলেন। এরপর বলেছিলেন, “(গানটা) এখানেও পপুলার নাকি?” আমি বলেছিলাম, এটা অনেকেরই পছন্দের গান। সেই সঙ্গে সবার মাঝেই জনপ্রিয় এই গান।’
‘তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা দুই বোন তো বাবার সঙ্গে মন্দিরেও গান করতেন। তাহলে ধর্মীয় গান গাইলেন না কেন? তিনি সুন্দর করে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, করা হয়নি। সুযোগ পেলে গাইব। তবে, ফিল্মে কিন্তু ধর্মীয় গান কিছু গেয়েছি’, বলেন রফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘এইরকম একজন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছিল। তার মতো প্রতিভা কমই এসেছে।’
নন্দিত শিল্পী রফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যে কোনো শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা উপমা দরকার পড়ে। প্রথম উপমায় আশা ভোসলের নাম আসবেই। লাইফ মিউজিকের ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে উনার নাম অনায়াসে উঠে আসবে। সংগীত দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। উদাহরণ হয়ে থাকবেন সারাজীবন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তার মতো শিল্পীর কাছে পৌঁছাতে আমাকে দুইবার জন্ম নিতে হবে। লাইভ মিউজিকে, শাস্ত্রীয় সংগীতে নারী শিল্পী হিসেবে আশা ভোসলের নাম অনেক ওপরে। আজ তিনি চলে গেলেন। তাকে স্মরণ করতেই হবে। তার গাওয়া গানই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

