আর্জেন্টিনা বনাম মিসর: যা যা জানা দরকার

দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার সবচেয়ে সফল দুই ফুটবল শক্তির লড়াই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আজ (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) আটলান্টায় মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ১৬ বারের কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা এবং সাতবারের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন মিসর।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবকটিই জিতে গ্রুপ ‘কে’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ বত্রিশে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কেপ ভার্দের বিপক্ষে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠতে আরও কঠিন লড়াই করতে হয়েছে মিসরকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে ফারাওরা।

আজকের ম্যাচের বিজয়ী আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়া ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

ম্যাচের আগে যা জানা দরকার

•    বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিসর।

•    সবশেষ ২০০৮ সালে কায়রোতে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেই ম্যাচে সার্জিও আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসোর গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে ওই ম্যাচে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।

•    বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। চলতি আসরে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে। এক আসরে তিনটি আফ্রিকান দলকে হারানোর কীর্তি এখনো কোনো দেশের নেই।

•    বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সর্বশেষ পাঁচটি বিশ্বকাপেই শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র শিরোপাধারী দল হিসেবে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ইতালি, ১৯৮৬ সালে যারা ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল।

•    বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ছয় ম্যাচে মিসর করেছে ৮ গোল, হজম করেছে ৯টি।

•    আজ মিসরের বিপক্ষে গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে দেশের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়া মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হবেন লিওনেল মেসি। এর আগে এই তালিকায় আছেন জঁ ফতেঁ (১৯৫৮), জাইরজিনহো (১৯৭০), গার্ড মুলার (১৯৭০), রিভালদো (২০০২) এবং হামেস রদ্রিগেজ (২০১৪)।

•    বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত দুই গোল করেছে আর্জেন্টিনা। আজও দুই বা তার বেশি গোল করতে পারলে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে উরুগুয়ের গড়া টানা ১১ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসাবে তারা।

•    চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মিসরের অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ। আজ আরও দুটি সুযোগ তৈরি করতে পারলে ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংয়ের গড়া এক আসরে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ ১৮টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি।

 

Related Articles

Latest Posts